প্রফেশনাল গ্রাফিক্সের কাজ থেকে শুরু করে হাই-এন্ড গেমিংও এখন ল্যাপটপের মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকেন অনেকেই। উচ্চ কনফিগারেশনের সব ল্যাপটপে এসব কাজ করার জন্য যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধাও থাকে। তারপরেও ডেস্কটপ পিসির সর্বোচ্চ মানের গ্রাফিক্স পারফর্ম্যান্সের তুলনায় ল্যাপটপের গ্রাফিক্স পারফর্ম্যান্স এতদিন পর্যন্ত অনেকটাই পিছিয়ে ছিল।
তবে এবারে ডেস্কটপ পিসির সর্বোচ্চ গ্রাফিক্স পারফর্ম্যান্সকেই ল্যাপটপে নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছে এনভিডিয়া। ডেস্কটপ পিসির জন্য তাদের তৈরি জিফোর্স জিটিএক্স ৯৮০ গ্রাফিক্স কার্ডের ল্যাপটপ সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে এবং তাতে ডেস্কটপ পিসির সমান পারফর্ম্যান্সই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে এনভিডিয়া। এর আগে ল্যাপটপের জন্য এনভিডিয়ার সর্বোচ্চ পারফর্ম্যান্সের গ্রাফিক্স কার্ডটির মডেল ছিল জিফোর্স জিটিএক্স ৯৮০এম।
ল্যাপটপ বা বহনযোগ্য পিসির জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল বলে এর সাথে মোবাইল শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ‘এম’ ব্যবহার করা হয়। এই গ্রাফিক্স কার্ডে হাই-এন্ড গেমিংয়ের ক্ষেত্রে ফোরকে রেজ্যুলেশন পর্যন্ত সমর্থন থাকলেও তা ডেস্কটপ জিটিএক্স ৯৮০ থেকে পিছিয়েই ছিল।
এবারে ডেস্কটপের সমান পারফর্ম্যান্স পাওয়ার উপযোগী ল্যাপটপের গ্রাফিক্স কার্ড তৈরির পর তারা মডেল থেকে ‘এম’ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। জিটিএক্স ৯৮০ জিটিএক্স ৯৮০ ডেস্কটপ গ্রাফিক্স কার্ডের মতোই জিটিএক্স ৯৮০ ল্যাপটপ সংস্করণের গ্রাফিক্স কার্ডে ব্যবহার করা হয়েছে ২,০৪৮ কুডা কোর, একই মেমোরি ব্যান্ডউইথ এবং ২৫৬-বিটের একই মেমোরি বাস।
শুধু তাই নয়, ডেস্কটপের মতোই ওভারক্লকিংয়ের পূর্ণ সুবিধা উপভোগ করা যাবে এই ল্যাপটপ গ্রাফিক্সে। ওভারক্লকিংয়ের এই সুবিধা অবশ্য এমএসআই বা অন্যান্য গ্রাফিক্স কার্ড নির্মাতাদের জন্যও উন্মুক্ত করে দিয়েছে এনভিডিয়া। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এই গ্রাফিক্স কার্ডে অকুলাস রিফট বা অন্যান্য কোম্পানির তৈরি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট ব্যবহারের সুবিধাও সংযুক্ত করা হয়েছে যা কোনো ল্যাপটপ গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রে এই প্রথম।
এরই মধ্যে এই গ্রাফিক্স কার্ডটি ব্যবহার করে কিছু গেমিং ল্যাপটপ তৈরির পরিকল্পনাও করেছে এনভিডিয়া। এর মধ্যে প্রথম ল্যাপটপগুলো তৈরি করবে আসুস, এমএসআই, ক্লেভো এবং অরাস। গেমিং বিশ্বের জন্য একে নতুন এক মাইলফলক হিসেবে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

