আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদুল আজহা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজে সারা দেশে পশু কোরবানির মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।
মানব জাতিকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করতে ফি-বছর আমাদের মাঝে হাজির হয় এই উৎসব। ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল এই দিনটি তাই ত্যাগের আদর্শ অনুসরণের তাগিদ দেয়। ঈদুল আজহা মানে লোক দেখিয়ে বহু দামে কেনা পশু জবাই নয়। রুটি-মাংস খাওয়ার দিনও নয়। নয় দানের নামে লোক দেখিয়ে মাংস বিলানো। আল্লাহভীতি থেকে আত্মত্যাগের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে আল্লাহর পথে কোরবানি করাই হলো ঈদের শিক্ষা। কবি নজরুলের ভাষায়- ‘চাহি নাকো গাভী দুম্বা উট, কতটুকু দান? ও দান ঝুট। চাই কোরবানি, চাই না দান।’
চার হাজার বছর আগে মুসলমানদের আদি পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হন সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি করার। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন তাঁর সবচেয়ে আদরের ধন। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে নিজ পুত্রকেই কোরবানি করার উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমা স্মরণ করে মুসলমানরা প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহপাকের অনুগ্রহ লাভে তাঁর পথে পশু কোরবানি করেন।
তবে ঈদের পরের দু’দিনও পশু কোরবানির সুযোগ আছে। সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানির আদেশ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না দরিদ্ররাও। কোরবানির পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার নিয়ম আছে।
ঈদ মুসলমানদের সর্বজনীন অনুষ্ঠান হলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাঙালি মুসলমানরা জৌলুসপূর্ণ ঈদ উদ্যাপন করেন। অন্তত ইতিহাস তা-ই বলে। বাংলাদেশে ইসলামের প্রথম যুগে ঈদ সাদামাটাভাবে উদ্যাপন করা হলেও মোগল ও নবাব আমলে তা উৎসবের রূপ পায়। ১৭ শতকে পরিব্রাজক মির্জা নাথানের ‘বাহরিস্তানে গায়েবি’ বইয়ে বাঙালির বর্ণিল ঈদের বর্ণনা পাওয়া যায়।
তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী ঈদে বাঙালি মুসলমানরা একে অন্যের বাড়িতে যেতেন। সেখানে আহারের ব্যবস্থা থাকত। ঈদের দিন মুসলমান নারী-পুরুষ ও ছেলেমেয়েরা সুন্দর কাপড় পরত। সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রাসহকারে ঈদগাহে যেত। অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিরা মুক্ত হস্তে অর্থ ও উপহারাদি ছড়িয়ে দিতেন। আর সাধারণ মুসলমানরা গরিবদের দান-খয়রাত করতেন।
সেই ধারায় আজও বাংলাদেশের ঈদ অনেক বর্ণিল। ঈদ মানেই আনন্দের মিলনমেলা। প্রাচীনকালের মতো এবারও সারাদেশে ঈদ উপলক্ষে মেলা বসবে। রাজধানীর রাস্তাগুলোকে সাজিয়ে তোলা হবে। নাগরিক বিনোদন কেন্দ্র চিড়িয়াখানা, শিশুপার্কসহ বিভিন্ন পার্কে থাকবে উপচেপড়া ভিড়। গণমাধ্যমেও থাকে ঈদের বিশেষ আয়োজন। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ঈদ সংখ্যা। টিভি চ্যানেলগুলোতে থাকছে সাত দিনব্যাপী ঈদ অনুষ্ঠান।
ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ দেশের শীর্ষ রাজনীতিকরা।

