চট্টগ্রামে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে উত্পাদন ব্যয় বাড়ছে

S M Ashraful Azom
চট্টগ্রামে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে উত্পাদন খরচ বেড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব বিদ্যুত্ কেন্দ্রের  মেশিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে না। এতে উত্পাদন খরচ প্রতি ইউনিট এক টাকা দশ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ টাকা পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অনেক বেড়ে গেছে।
 
জানা যায়, ১৯৮৪ সালে শিকলবাহা এলাকায় ৬০ মেগাওয়াটের গ্যাসনির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রের মেরামত কাজ না হওয়ায় মেশিনগুলো নাজুক হয়ে পড়েছে। আবার গ্যাস সংকটে বছরের অধিকাংশ সময় উত্পাদন বন্ধ রাখার কারণেও যান্ত্রিক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে চাহিদা অনুপাতে গ্যাস পাওয়া গেলেও দৈনিক ৩৮ থেকে ৩৯ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে উত্পাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি ইউনিটে উত্পাদন খরচ হচ্ছে ২ টাকা। গত ২৭ বছরে এই বিদ্যুত্ কেন্দ্রে  দুবার মেরামত কাজ হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রের অবস্থা এত নাজুক যে জোড়াতালি দিয়ে আর ৩/৪  বছরের বেশি চালু রাখা যাবে না।
 
এদিকে গ্যাসনির্ভর রাউজান বিদ্যুত্ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের অবস্থাও নাজুক। এই দুটিতেও উত্পাদন খরচ আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা যায়, এখানে ১৯৯৩ সালে ১ নম্বর এবং ১৯৯৭ সালে ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হয়। দু্্্্্্ই ইউনিটের দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা ছিল ৪২০ মেগাওয়াট। আর গ্যাসের দৈনিক চাহিদা রয়েছে ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। মেশিনের জরাজীর্ণতায় চাহিদা অনুপাতে গ্যাস পাওয়া গেলেও প্রতি ইউনিটে দৈনিক ১৫০/১৬০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
 
জানা যায়, ইতোমধ্যে ১ নম্বর ইউনিট দুই বার ও ২ নম্বর ইউনিটে একবার মেরামত কাজ হয়েছে। এসব মেরামত কাজের সময় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে কয়েক শ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও  আশানুরূপ সুফল পাওয়া যায়নি। আগামী মাসে ৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় বারের মতো ২ নম্বর ইউনিটে মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
 
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসনির্ভর এসব বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মেয়াদ ২৫ থেকে ৩০ বছর হয়েছে। সাধারণত একটি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মেয়াদ ২০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। ৩ বছর পরপর মেরামত কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সময় মতো মেরামত কাজ না হওয়ায় বিদ্যুত্ কেন্দ্রে স্থাপিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা কমে গেছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বেড়ে গেছে।
 
এ প্রসঙ্গে শিকলবাহা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ভুবন কুমার দত্ত ইত্তেফাককে বলেন, এখন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্পাদন খরচ আরো বাড়বে। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ব্যবহূত গ্যাসের হিসাবে বিদ্যুত্ উত্পাদিত না হওয়ায় উত্পাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
 
এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্রে উত্পাদন বাড়ায় খরচ কমেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, লেকে পানি পর্যাপ্ত থাকায় বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু রয়েছে। দৈনিক উত্পাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট হলেও ২৪০/২৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হচ্ছে। ফলে উত্পাদন খরচ প্রতি ইউনিট ৩২ পয়সা থেকে কমে প্রায় ১৫ পয়সায় নেমে এসেছে বলে কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top