বইয়ের ক্ষতি হতে পারে

S M Ashraful Azom
0

অনেক কারণেই বইয়ের ক্ষতি হতে পারে। সব ক্ষতির সমাধান দেয়া সম্ভব না হলেও আমরা বিশ্বাস করি একটু যত্নবান ও সচেতন হলে বইগুলো দী‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্ঘদিন অক্ষত রাখা সম্ভব।
 
বইয়ের যত্নে কিছু সহজ উপায়-
১. বইয়ের সংগ্রহ কোথাও স্তুপ করে বা এলোমেলো করে না রেখে কোনো এক জায়গায় সাজিয়ে রাখুন। সেরা পদ্ধতি হলো বুক শেলফ। সেটা না থাকলে আপনার টেবিলে বইয়ের আকার অনুসারে সাজিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে অতি অবশ্যই বুক শেলফ ব্যবহার করুন।
২. সংগ্রহ থেকে বই নেবার সময় যত্নবান হোন, বই আবার জায়গামত রেখে দিন কাজ শেষ হয়ে গেলে।
 
 
৩.পড়ার সময় খেতে বা পানীয় থেকে বই দূরে রাখুন। খেতে খেতে পড়তে গেলে সামান্য অস‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্তকতায় আপনার প্রিয় বইটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
৪.বইয়ের পাতা মুড়ে মা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্ক করার অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন। এতে পাতা নষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা থাকে। বুক মা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্কার ব্যবহার করুন, ছোট্ট কাগজ বা অব্যবহৃত ভিজিটিং কা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্ড বেস্ট বুক মা‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্কার বলে পরিচিত। অনেকে বইয়ের পাতার নম্বর মনে রাখতে চেষ্টা করেন। এটাও বেশ কাজের। আবার একই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি নিয়ে একটু চর্চা করে নেয়া গেল।
৫. বই ভাঁজ করে পড়ার অভ্যাস বইকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। বিশেষ করে পেপারব্যাক বই পড়ার সময় আমরা এই কাজটা করি। ম্যগাজিন বা সাময়িকীর ক্ষেত্রে এটা তেমন একটা ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত হয় না, কারণ সেগুলো আমরা সাধারণত সংরক্ষণ করি না। তবে বইয়ের বিষয়ে এটা অবশ্যই খেয়াল করা উচিত।
৬. আ‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্দ্র‌‌‌‌‌‌‌‌‌তা থেকে সচেতন থাকুন। আ‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্দ্রতা আপনার বই এর কাগজকে ধীরে ধীরে নরম করে তুলবে। বই এক সময় নিজে থেকেই নষ্ট হয়ে যাবে। শুকনো জায়গায় বই রাখুন, মাঝেমাঝে, সম্ভব হলে বছরে এক বা দুইবার বই বার করে সকালের রোদে এক দু ঘণ্টা রেখে দিন। এটা বইতে আ‌‌‌‌‌‌‌‌‌র্দ্রতার পরিমান কমাবে, বই এর আয়ু বাড়াবে।
 
 
৭. পোকামাকড় আমাদের দেশে বই এর সবচেয়ে বড় শত্রু। সময় সময় ইদুরও কম যায় না। ন্যাপথালিন বই মাঝে মাঝে ছড়িয়ে দিলে পোকামাকড়ের উপদ্রবের আশঙ্কা কমে যাবে। মাঝে মাঝে রোদে বই দিলে পোকামাকড়ের আশঙ্কা আরও কমে যাবে। কাঁচের দরজা যুক্ত শেলফ ব্যবহার করলে বই অনেকাংশে পোকামাকড় মুক্ত থাকবে। আবার আলো যাওয়া-আসা করলে সেটাও উপকার হবে। দেশিয় উপায়ে পোকামাকড় থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে প্রতি বই এর মাঝে নিম পাতা ছড়িয়ে দিলে কোনো পোকাই প্রায় ধারে কাছে ঘেঁষে না। আবার বাড়তি নিরাপত্তার জন্য আপনি শেলফের বিভিন্ন জায়গাও নিমপাতা ছড়িয়ে রাখতে পারেন।
৮. কাঁচের দরজা যুক্ত শেলফ হলে বই তালা দিয়ে রাখাটা খারাপ বুদ্ধি না। বাড়িতে বাচ্চা থাকলে, পোষা প্রানী থাকলে, প্রচুর মানুষের আনাগোনা থাকলে এই কাজটা আপনার বইকে আলটিমেট সুরক্ষা দিবে।
৯. বই কাউকে যদি দিতেই হয়, নিশ্চিত হয়ে নিন, সেই মানুষ বই এর যত্ন করতে জানে এবং সময় মত বই ফেরত দেবার বিষয়ে সচেতন। সম্ভব হলে একটা ডায়েরি মেনটেন করুন, যেটাতে লেখা থাকবে কবে কাকে বই দিয়েছেন এবং কবে সেটা ফেরত দেবার কথা।
 
আশা করছি এই তথ্যগুলো আপনার মুল্যবান বই রক্ষায় কাজে আসবে।
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top