অর্থনীতির গতি মন্থর

S M Ashraful Azom
0
সেবা ডেস্ক:  ভালো কোনো খবর নেই দেশের অর্থনীতির জন্য। প্রতিটা খাতের সূচকই নিম্নমুখী। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বাস্তবায়নের অবস্থাও ভালো নয়। বিনিয়োগের স্থবিরতা, রাজস্ব আদায়ে হ্রাসমান প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দাতাদের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়া, রপ্তানি খাতে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি না হওয়া, রেমিট্যান্স-প্রবাহ কমে আসাসহ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরকার চলতি অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবায়ন নিয়েও দেশি ও বিদেশি সংস্থাগুলোর সন্দেহ রয়েছে। ফলে একটা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে দেশের সার্বিক অর্থনীতি।
রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হয়নি
অর্থবছরের ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। রাজস্ব আদায়ে কোনো ভালো খবর নেই। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে রাজস্ব বোর্ড তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। লক্ষ্যমাত্রায় ৮ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। এনবিআর ৫৪ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে। প্রথম চার মাসে আদায়ের হার ছিল মাত্র ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। স্বাধীনতার পর থেকে রাজস্ব বোর্ড এখন পর্যন্ত তার রাজস্ব আদায়ের হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। রাজস্ব আদায়ে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে।
বিনিয়োগ পড়তির দিকে
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী আমদানির প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। মূলধনী পণ্যের আমদানিও কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ২০ শতাংশ। মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানির প্রবৃদ্ধিও ঋণাত্মক ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত সূচকগুলো স্থবির বিনিয়োগেরই সংকেত দিচ্ছে।
এডিপি কাটছাঁট করা হচ্ছে
কাটছাঁটের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের (২০১৫-১৬) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ছোট করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশন থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে চিঠি (কল নোটিশ) দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীদের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তার প্রতিশ্রুতি আশানুরূপ না পাওয়া এবং অর্থবছরের ৫ মাসের বাস্তবায়নের হার গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় এডিপির আকার তিন হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ব্যাংকে বকেয়া বাড়ছে
দেশের ব্যাংকিং খাতে বকেয়া ও খেলাপি ঋণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশে ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা। যেখানে মোট খেলাপি ঋণ হলো বকেয়া ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ বা সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকে সাধারণ আমানতের বড় অংশ একটি গোষ্ঠীর কাছে আটকা পড়ে আছে।
রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মন্থর
চলতি বছর দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এখনো দুই অঙ্কের মুখ দেখতে পারেনি। ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। এই রপ্তানি আয়ের ওপর দেশের বড় বৈদেশিক মুদ্রার অর্জন নির্ভর করে। এই খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ভালো থাকতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকেরা। অন্যদিকে ইউরোপের বাজারে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশের রপ্তানি খাতের টিকে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top