ভোট গ্রহণ ও গণনা বিশ্বাসযোগ্য ছিল না: সুজন

S M Ashraful Azom
0
সেবা ডেস্ক:  এবারের পৌরসভা নির্বাচনে ভোট প্রদান, গ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সন্দেহমুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য ছিল না বলে মন্তব্য করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে নবনির্বাচিত মেয়রপ্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সুজন।
 
‘পৌরসভা নির্বাচন: কেমন মেয়র পেলাম’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার তাদের এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। পর্যবেক্ষণে তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে গত পৌর নির্বাচনের তুলনায় এ নির্বাচনে কিছুটা মানোন্নয়ন ঘটেছে। আপাত দৃষ্টিতে ভালো প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। গুণগত দিক থেকে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে।’
 
তবে সার্বিকভাবে এ নির্বাচন গতবারের মতো সুষ্ঠু হয়নি বলে সুজনের পর্যবেক্ষণ। বিক্ষিপ্ত  গোলযোগ ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগের মধ্যে গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌর ভোট হয়। প্রথম পর্বে ভোটের ফল হওয়া ২৩৩ পৌরসভার মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৮১ জন, বিএনপি ২৪ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন এবং ২৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে গণমাধ্যমে খবরে বলা হচ্ছে, নির্বাচিত এই  মেয়রদের মধ্যে অন্তত অর্ধশত প্রার্থী বিভিন্ন মামলার আসামি। তাদের মধ্যে ২৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা মামলাও রয়েছে। তবে নির্বাচিতদের ভালো বলার ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়েছে সুজন।
 
বদিউল আলম মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে জানান, নির্বাচিত মেয়রদের মধ্যে ৯৫ জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাস। নির্বাচিতদের হলফনামা পর্যালোচনা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, ভোটাররা উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থীদের বেশি ভোট দিয়েছেন। ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়রদের মধ্যে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীর হার ছিল ৩৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ, স্বশিক্ষিত ছিল ২১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিতের হার ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ ও স্বশিক্ষিত ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। সুজন সম্পাদক জানান, ২০০৮ সালের নবম সংসদ, পরবর্তীতে উপজেলা, সিটি ভোট সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। ২০১১ সালের  পৌর নির্বাচনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ  ভোটের আরেকটি মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয় বলেও তিনি জানান।
 
দশম সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ ও সিটি  ভোটের নির্বাচন প্রক্রিয়ার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বদিউল আলম বলেন, দুর্ভাগ্যবশত ৩০ ডিসেম্বরের পৌর ভোট নিরপেক্ষতার বিচারে আগের নির্বাচনের ধারেকাছেও  পৌঁছাতে পারেনি। নির্বাচনে যেসব নেতিবাচক দিক দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তা না শুধরালে ভবিষ্যতে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top