বকশীগঞ্জে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা করছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস

G M Fatiul Hafiz Babu
0
সেবা ডেস্ক: 
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা সদরসহ গ্রামগঞ্জের কিন্ডার গার্টেন ও কোচিং সেন্টারের ছড়াছড়ি হয়েছে। এসব কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের লাগাম টেনে ধরতে এবার শিক্ষকদের তালিকা করছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং সুষ্ঠু তদারকির অভাবে দিন দিন অবৈধ কোচিং সেন্টার ও কিন্ডার গার্টেনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে হতাশ হয়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে গত বছর মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা দফায় দফায় বৈঠক করলেও কার্যত কোন ফল পাওয়া যায়নি। উল্টো প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে নিজেদের অবস'ার জানান দিয়েছে কোচিং মালিকরা। অপরদিকে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের মালিকদের দৌরাত্ম্যে অভিভাবক এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীও বিব্রতকর অবস'ায় রয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মত অবৈধ কোচিং সেন্টার গড়ে উঠায় বকশীগঞ্জ উপজেলা সদরে কোচিং সেন্টার গুলোতে চলছে জমজমাট ব্যবসা। এ হলো বকশীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার হালচাল। কোচিং সেন্টার ও কিন্ডার গার্টেন নিয়ে অভিভাবকদের রয়েছে নানা অভিযোগ। কয়েকটি কোচিং সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স'ানে অবৈধ কোচিং সেন্টার এবং কিন্ডার গার্টেন এর নামে চলে রমরমা বাণিজ্য। এলাকার একটি মহল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে একের পর এক গড়ে তুলেছে বিভিন্ন চটক নাম দিয়ে কোচিং সেন্টার। কোচিং সেন্টারের মালিক ও শিক্ষকরা জোট বেঁধে অভিভাবকদের বাসাবাড়ি গিয়ে নানা প্রলোভন দেখায়। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরু থেকেই চলে অবৈধ কোচিং সেন্টার ও কিন্ডার গার্টেন মালিকদের প্রতিযোগিতা। কোচিং সেন্টারের জন্য এই দুই মাস ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহের মাস বলা হয়। নানা প্রতিশ্রুতি এবং সুযোগ-সুবিধার কথা বলে অভিভাবকদের প্রলোভন দেখানো হয়। এছাড়া বেতন নিয়েও চলে নানা কারসাজি। কোচিং সেন্টার এবং কিন্ডার গার্টেনে ভর্তির জন্য শহরের অলিগলি এবং স্কুল-কলেজের সামনে চটকদার বিজ্ঞাপন এবং রঙিন পোস্টার ব্যানারে ছেয়ে ফেলেছেন এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শিক্ষকরা। আর এর সঙ্গে কলেজের প্রভাষক , মাধ্যমিক স্কুল এবং সরকারি প্রাইমারী স্কুলের কতিপয় শিক্ষক। তারা স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কোচিং সেন্টার এবং কিন্ডার গার্টেন নিয়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের প্রাইভেট এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও বকশীগঞ্জে তাও বাস্তবায়ন হয়নি। গত বছরের ৫ জানুয়ারি বকশীগঞ্জে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। ওই আবেদনের পর শুধুমাত্র কোচিং চালাতে ধরাবাধা কিছু নিয়ম বেঁধে দেন উপজেলা প্রশাসন। অপরদিকে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ তালুকদার অবৈধ কোচিং বাণিজ্য বন্ধে অফিস আদেশ জারি করেন। কিন' তারপরও অবৈধ কোচিং বন্ধ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন মাধ্যমিক শিক্ষকরা।  কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নানা অভিযোগ , অনিয়মের বিষয় গুলো নিয়ে এবার আশার বাণী শুনিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিস।
গত ২০ ডিসেম্বর জামালপুর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে জেলা  শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
একটি বিশেষ সূত্র জানায়, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে কোচিং সেন্টারের বাণিজ্যের সাথে জড়িত সকল শিক্ষকদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানোয়ার হোসেন গত ২৭ ডিসেম্বর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকদের নামের তালিকা চেয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ওই চিঠি পাওয়ার পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, জেলা কর্মকর্তার চিঠি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকদের নামের তালিকা হাতে পেয়ে যাব।
 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top