সেবা ডেস্ক: কোনও কারণে হয়তো এমন একজন জীবনসঙ্গী পেলেন, যার আগেও একবার বিয়ে হয়েছে। সে সূত্রে তার একটি সন্তানও আছে। সমাজের হিসেব অনুযায়ী এখানে 'সৎ মা' কথাটি ব্যবহার করে মায়ের স্থান ছোটো করে দেব না। মা তো মা-ই। তার আপন বা পর হয় না। জন্ম দিলেই যে প্রকৃত অর্থে মা হওয়া যায়, তার কোনও নিয়ম নেই।
ইসলাম ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে জন্ম দিয়েছিলেন এক মা ও তাঁকে লালন-পালন করেছিলেন আরেক মা। তা আমাদের সকলেরই জানা।
মা হতে গেলে বাচ্চার দায়িত্ব নিতে হয়। তাকে ভালো করে মানুষ করতে হয়। সম্পর্কটাকে স্নেহে-ভালোবাসায় ভারিয়ে তুলতে হয়। তা হলেই মা হওয়া যায়। আমরা বরং পালিত মায়ের ভালো একটা নাম দেই- 'নতুন মা'।
মায়ের অভাবে বাচ্চা দিনের পর দিন বিষাদগ্রস্ত হয় পড়ছে। সে ক্ষেত্রে মা হারা বাচ্চাটিকে আপন করে নিতে বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু বাচ্চা যদি নিজের আসল মায়ের জায়গা অন্য কাউকে দিতে না চায়- সেখানেই তৈরি হবে সমস্যা। স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্যেও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, সেক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নজর দেওয়া একান্তভাবে জরুরি।
বাচ্চা প্রথম প্রথম আপনাকে অস্বীকার করবে। আপনার কাছে আসতেই চাইবে না। দুর্ব্যবহারও করতে পারে। এসব দেখে মুষড়ে পড়বেন না। বরং সবটাই ধৈর্য ধরে সহ্য করতে হবে। বাচ্চাকে বোঝাতে হবে, আপনি ওর পর নন। জন্ম দেওয়া মা না হলেও, আপনিও আসলে মা। এই সময়টায় বাচ্চা আপনাকে ভালো করে পরীক্ষা করবে, নিজের মায়ের সঙ্গে তুলনা করবে। কিন্তু আপনি যদি বাচ্চাটিকে আপন ভেবে থাকেন, সেও একদিন আপনাকে আপন করে নেবে।
পরিবারে শান্তিবহুল পরিবেশ বজায় রাখুন। সব সময় হাসি মজা করে থাকুন। ঝগড়াঝাটি করবেন না। কোনও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হলে হালকাভাবে ব্যাপারটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সন্তানের ভালো লাগা, মন্দ লাগার বিষয় খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে। সময় লাগলেও, মন খারাপের মেঘ কেটে গিয়ে একদিন আশার আলো ঠিক ফুটবেই। কোনওরকম নাড়ির টান না থাকা সত্ত্বেও গড়ে উঠবে এক অমোঘ সম্পর্ক।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।