ডিজিটাল কর্মসূচি গ্রামীণ জনগণকে সুবিধা প্রদান ও উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে

Nuruzzaman Khan
সেবা ডেস্ক:  সরকারের ডিজিটাল কর্মসূচি গ্রামাঞ্চলের জনগণকে ব্যাপক সুবিধা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে।

বর্তমানে শহর ও গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল সুবিধা নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য ও অপরিবর্তনীয় অংশ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে ভবিষ্যতে দেশের সকল গ্রাম ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় চলে আসবে।

রংপুরেরর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ বলেন, ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সরকারি সেবা সফলভাবে গ্রামাঞ্চলের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) জনগণকে বিভিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ইউডিসি থেকে গ্রামের মানুষ কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভর্তি, আইন, মানবাধিকার, কর্মসংস্থান, পণ্যের বাজারজাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য ও সেবা পাচ্ছে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, এছাড়াও ইউডিসি থেকে ভূমি সম্পর্কিত তথ্যাদি, কম্পোজিং, প্রিন্টিং, ছবি তোলা, স্ক্যানিং, ই-মেইলিং, ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেশে ও বিদেশে কথা বলা, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সুবিধাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, ডিজিটাইজেশন গ্রামীণ এলাকার শিক্ষিত যুবকদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সহজে প্রবেশ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে তারা বাড়িতে বসেই আউটসোর্সিং কাজ করে আয় করার সুবিধা পাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে গ্রামাঞ্চলের সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে ডিজিটাইজেশন নবজাগরণ সৃষ্টি করেছে।

সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ইউডিসি’র উদ্যোক্তা আরিফুজ্জামান মুন জানান, তিনি তার কেন্দ্র থেকে অন-লাইন ও অফ-লাইনে গ্রামীণ এলাকার মানুষকে ৩৫ ধরনের ডিজিটাল সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এতে তার মাসে গড়ে ৬০ হাজার টাকার মতো আয় হচ্ছে।
কৃষক আবদুস সোবহান ও সুকুমার সরকার জানান, তারা কয়েক বছর যাবত সদ্যপুস্করিনী ইউডিসি থেকে শস্য চাষ, কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা, কৃষি প্রযুক্তি, বীজ, সার, সারের ডিলার, কীটনাশক ইত্যাদি বিষয়ে সহজেই তথ্য পাচ্ছেন।

তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালি ইউনিয়নের দক্ষিণ হাজীপুর গ্রামের অশ্রুকনা রায় বলেন, ‘আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যাবতীয় তথ্য জানা ও আবেদনপত্র প্রেরণের কাজ স্থানীয় ইউডিসি’র ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছি।’
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের (ডিওয়াইডি) সহকারী পরিচালক দিলগির আলম বলেন, ইউডিসি’র ডিজিটাইজড আউটসোর্সিং সুবিধা গ্রামাঞ্চলের শিক্ষিত যুবকদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে তারা দেশীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।

তিনি বলেন, আমরা এখানে ডিওয়াইডি ভবনে শিক্ষিত যুবকদেরকে আউটসোর্সিং-এর ওপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আগামী বছর এখান থেকে গ্রাম ও শহর এলাকার এক হাজার শিক্ষিত যুবককে বিনামূল্যে আউটসোর্সিং-এর ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এ কে এম নূরুন নবী বলেন, গ্রামীণ এলাকার জনগণের দারিদ্র্য নিরসন করে তাদের জীবনমান উন্নয়নে ডিজিটাইজেশন প্রকৃত চালিকা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তিনি বাল্যবিবাহ রোধ, যৌতুক ও মাদক নির্মূল, বিশুদ্ধ পানীয়জল ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে ইউডিসিকে জনসচেতনতার ভূমিকা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।-বাসস।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top