দেশে প্রতি বছর গড়ে সোয়া লাখ মানুষ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়

Nuruzzaman Khan
সেবা ডেস্ক:  দেশে প্রতি বছর গড়ে এক লাখ ২২ হাজার ৭১৫ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। আর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর গড়ে মারা যায় ৯১ হাজার ৩৩৯ রোগী। ক্যান্সারের চিকিত্সা করাতে গিয়ে প্রতি বছর সর্বস্বান্ত হচ্ছেন দেশের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ।
 
উপজেলা পর্যায়ে ক্যান্সার সচেতনতা ও শনাক্তকরণের লক্ষ্যে সমাজসেবাভিত্তিক ক্যান্সার সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সেন্টার ফর ক্যান্সার প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছয় জেলার ৬০টি উপজেলায় এই  কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
 
অনুষ্ঠানে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা জানান, ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ চিকিত্সাসেবা পান। আক্রান্ত রোগীর দুই তৃতীয়াংশ সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার পরিবার ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যাচ্ছে। শতকরা ৭৫ ভাগ রোগীর দেহে ক্যান্সার শনাক্তের পর তারা ৬ থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে মারা যাচ্ছে। আক্রান্তদের শতকরা ৬৪ ভাগই নারী। অর্থনৈতিক সমস্যা ছাড়া সুস্থ আছে শতকরা ২৩ ভাগ রোগী।
 
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ক্যান্সার চিকিত্সার সুবিধা বেড়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ যোগ হয়েছে। এটা একটা অগ্রগতি। কিন্তু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্যান্সার রোগীর ক্ষুদ্র অংশের সামর্থ্য আছে এর সুবিধা নেওয়ার। বেসরকারি পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিত্সার উচ্চ ব্যয় মেটানোর সামর্থ্য নেই বেশিরভাগ রোগীর। তবে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা অনেক রোগীকে বিদেশে ঠেলে দিচ্ছে। প্রকৌশলী মো.ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক ডা.সাবেরা খাতুন, অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা, গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) শফিকুল ইসলাম, এটিএম সালাউদ্দিন হুমায়ন, নিলুফার ইয়াসমিন প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রকৌশলী এসএম সায়েম।
 
অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, দেশের প্রতিটি শহরে একটি করে ক্যান্সার চিকিত্সা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ নির্ণয় করা গেলে রোগী বাঁচানো সম্ভব। এতে ব্যয়ও অনেক কম লাগে। অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন বলেন, আমাদের দেশে রোগ নির্ণয় সম্পর্কে কোনো সচেতনতা নেই। এর প্রধান কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক সমস্যা। তিনি বলেন, ৯ থেকে ১৬ বছরের মেয়েদের ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা দিতে হবে। অল্প বয়সে বিয়ে ও ঘনঘন বাচ্চা প্রসব এই রোগের একটি কারণ।
 
গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব) শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্যান্সার একটি মরণ ব্যাধি। প্রান্তিক রোগীরা এর ভয়াবহতার শিকার। এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, অনেকেই ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছে। ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেও অনেক পরিবার বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ছে। তিনি সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top