ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামীলীগ এগিয়ে থাকলেও সীদ্ধান্ত হীনতায় বিএনপি

S M Ashraful Azom
0
ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামীলীগ এগিয়ে থাকলেও সীদ্ধান্ত হীনতায় বিএনপি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় সরকারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই। ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা । জেলার অন্য উপজেলার তুলনায় রাজনৈতিক ভাবে এ উপজেলাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে মার্চেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা চালিয়ে যাচ্ছেন নানামুখী তৎপরতা । আবার অনেকের পক্ষে তাদের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালাচ্ছেন বিভিন্ন প্রচারনা ।

এ উপজেলায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ৯০ দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র গণআন্দোলনের তুখোড় ছাত্রনেতা, ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি, বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক রুবেল। সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো। 

সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম সরকার। জেলা আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক ও ভুল্লী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী ভুট্ট্রো, জেলা পরিষদ সদস্য রওশনুল হক তুষার ও বেগুনবাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি বনি আমীনের নামও শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে সীদ্ধান্ত হীনতায় ভূগছে বিএনপি। এ উপজেলায় জাতীয় পার্টি পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেতে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাজিউর রহমান চৌধুরী স্বপনও থেমে নেই।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল হুদা শাহ এ্যাপোলো বলেন গোলাম ফারুক রুবেল একজন সৎ, দক্ষ, স্পষ্টবাদী নেতা। তিনি স্কুল জীবন থেকেই আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ১৯৮২ সালে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, ১৯৮৪ সালে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮৬-১৯৯১ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৮৮ সালে সরকারি কলেজ সংসদে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ভি.পি, ১৯৯২ সালে বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক, ১৯৯৫-১৯৯৯ সাল পর্যন্ত পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কারাবরণ করেন এই নেতা। ৯০ এর গণ আন্দোলনের সর্বোদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবারো কারাবরন করেন তিনি। ১৯৮২ সাল থেকে আ’লীগের প্রত্যেকটি কর্মকান্ড ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন এই নেতা। ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা কারাবরণ কালে মুক্তির জন্য বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহন ও ভুমিকা রাখেন রুবেল।

অপর দিকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটোকে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী তৈমুর রহমান নির্বাচিত হন । তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন ওই নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় অন্তঃকোন্দলের কারনে এ ফলাফল হয়েছে । আওয়ামীলীগের এই নেতা মনে করেন যেহেতু গত নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন, সে জন্য দলীয় মনোনয়ন তারই প্রাপ্য।

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীরা ব্যাস্ত হয়ে পড়ছেন ততই । তবে সদর উপজেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ব্যক্তিগত পরিচয়, দলীয় পরিচয়, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ ও তৃনমুলে গ্রহণযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন দিলে এ উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম ভাল হবে। তবে সকল জল্পনা কল্পনা ছাপিয়ে কে কোন দল থেকে মনোনয়ন পান এবং কে সর্বশেষ বিজয়ী হন সেদিকে তাকিয়ে আছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ।

এ প্রসঙ্গে গোলাম ফারুক রুবেল বলেন রাজনৈতিক জীবনে সব সময় দলীয় স্বার্থে নেতাকর্মীদের সুখে-দুখে, বিপদে-আপদে মাঠে থেকেছেন। তিনি মনে করেন এ উপজেলায় আ’লীগের মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে জানান এই নেতা। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়ে গণআন্দোলনের মাধ্যমে সমাজের বিদ্যমান অনাচার-অন্যায়, ঘুষ -দুনীর্তি ও সদর উপজেলাকে মাদক মুক্ত করবেন ।

আসন্ন এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম সরকার, জেলা আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক ও ভুল্লী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী ভুট্ট্রোর সাথে কথা বলে জানাযায়, নেত্রী যাকেই মনোনয়ন দেক , দলের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে এক সাথেই কাজ করতে চান তারা।

অপরদিকে বিএনপির মহাসচীব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ নির্বাচনী এলাকায় অনেকটা সীদ্ধান্ত হীনতা এবং কেন্দ্রীয় স্বিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিএনপি থাকলেও বসে নেই জাতীয় পার্টি পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজিউর রহমান চৌধুরী স্বপনও । তিনি জানান, আমি মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচিত হলে সবার প্রথমে কাজ করবো যুবক ও তরুনদের জন্যে। পর্যায়ক্রমে অন্য কাজ গুলিও করবো তবে মাদক নির্মূলে যা করা প্রয়োজন তা সবই করবো।


⇘সংবাদদাতা: ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top