সেবা ডেস্ক: দুঃসময়ের রাজনৈতিক মিত্রদের অবহেলা করে ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে মাতামাতি করায় বিএনপির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা।শুধু তাই নয়, ঐক্যফ্রন্টের প্রলোভনে পড়ে সংসদ নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটের কার্যক্রমের কোন খোঁজ-খবর রাখছেন না বিএনপির নেতারা। ২০ দলীয় জোটকে ক্রমাগতভাবে অবহেলা-অবজ্ঞা করলে আগামীতে ২০ দলীয় জোটের ভাঙন অবধারিত হবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শরিক দলের নেতারা। জোটটির বিভিন্ন শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ও আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ দল জামায়াতের নেতারা বিএনপির কার্যক্রমে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াত অনুধাবন করতে পেরেছে যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসলে জামায়াতের কোন বন্ধু রাজনৈতিক দল নেই। সবাই জামায়াতকে নিজ নিজ স্বার্থে ব্যবহার করেছে। আবার প্রয়োজন শেষে আমাদেরকেই বদনাম করে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জামায়াত আর কারো প্রলোভনে পা দিবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দল যদি বিলুপ্তও হয়ে যায় তবুও কারো অনুগ্রহ চাইবে না জামায়াত। আর ২০ দলীয় জোটে তো আমরা অচ্ছুত রকমের দল। আমাদের কোন উপদেশ-পরামর্শ কখনই কানে তুলেনি ২০ দলীয় জোট। জামায়াতের কারণে সব সময় লাভবান হয়েছে এই জোট। অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার প্রসঙ্গে আমাদেরকেই প্রতিবার দোষারোপ করা হয়েছে। সুতরাং জামায়াত ২০ দলীয় জোটের সঙ্গ অনেক আগেই ত্যাগ করেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া বাকি।
২০ দলীয় জোটের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদৎ হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রেমে মজেছে। ২০ দলীয় জোট তো এখন অবহেলিত ও অনাথ আশ্রমে পরিণত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, জোটের বিষয়ে কিছু বলার নেই। ঐক্যফ্রন্ট সম্ভবত বিএনপি নেতাদের সম্মোহিত করে রেখেছে। ঐক্যফ্রন্ট আপন করে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সতীনের মতো আচরণ করছে বিএনপি। এর ফল কিন্তু ভালো হবে না। জোটের কোন কার্যক্রম নেই বললেই চলে। রাজনৈতিকভাবে অবহেলিত আমাদের জোট।
কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, আমরা তো বিএনপির জন্য জোট করিনি, করেছি জনগণের জন্য, দেশের জন্য। সুতরাং ২০ দলীয় জোটের কার্যক্রমে স্থবিরতা আসলে দলগতভাবে যে যার মতো চলছি। আমরা ছোট দলের প্রতিনিধি বলেই আজকে অবহেলার শিকার হয়েছি। এটা এক ধরণের রাজনৈতিক অপমানের শামিল।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোটের কোনো সভা হয়নি জানিয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বিএনপি তো এখন ঐক্যফ্রন্টের ব্যথায় আছে, দৌড়াদৌড়ি করছে। ঐক্যফ্রন্টের যে দলগুলো রয়েছে তাদের মানববন্ধনের চেয়ে অন্যকিছু করার ক্ষমতা নেই। এরা কোনো দিন বিক্ষোভ কর্মসূচি দেবে না। কারণ বিক্ষোভ কর্মসূচি দিলে রাস্তায় নামতে হবে, পুলিশের পিটুনি খেতে হবে। জোটের কর্মসূচি নিয়ে আমরা চিন্তিত নই, এ নিয়ে আমাদের কোনো তাড়া নেই।
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।