
সেবা ডেস্ক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হয়ত এমন পরিস্থিতির কথাই ভেবে তার লিচু চোর কবিতাটি লিখেছিলেন, যার একটি বিখ্যাত পংতি ছিল ‘পড়বি পড় মালীর ঘাড়ে’। কিন্তু কবিতাটা তো আর ব্রাজিলের এক চোরের পড়া ছিল না, তাই তো সে এক মিক্সড মার্শাল আর্টিস্ট নারীর ফোন ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। পরিণামে তার হাতে ধোলাই খেয়ে জ্ঞান হারাতে হয়।
পলিনা ভিয়ানা একজন ব্রাজিলিয়ান মিক্সড মার্শাল আর্টিস্ট, খেলে UFC (Ultimate Fighting Championship) স্ট্রওয়েট ডিভিশনে। ঘটনার দিন, রিও দো জেনেইরোতে তার এপার্ট্মেন্টের কাছে এক গলিতে উবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ সে খেয়াল করে একজন সন্দেহজনক ব্যক্তি তার খুব নিকটে চলে আসে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভিয়ানা বলেঃ
“ যখন সে বুঝতে পারে যে আমি তাকে দেখে ফেলেছি, তখন সে আমার পাশে বসে এবং সময় জিজ্ঞেস করে। আমি তাকে সময়টা বলি। কিন্তু এরপর তার মাঝে উঠে যাওয়ার লক্ষন দেখতে না পেয়ে আমি আমার সেলফোনটি পকেটে ঢুকাই। তখন সে বলে, ‘তোমার ফোনটি দাও, কোনরকম চিৎকার করবে না, আমার কাছে অস্ত্র আছে।‘ তারপর সে তার হাতটা উপরে তোলে যাত পিস্তলের মতো কিছু একটা ধরা ছিল, কিন্তু জিনিসটি দেখে আমার খুব নরম মনে হয়েছে।
‘সে আমার খুব কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি খুব দ্রুত চিন্তা করলাম এবং উঠে দাঁড়ালাম। আমি তার দিকে দু’টো ঘুসি এবং একটা লাথি ছুঁড়ে মারলাম। এতে সে পড়ে যায়, তখন আমি তাকে রিয়ার ন্যাকেড চোক (মার্শাল আর্টের এক কৌশল, যার সাহায্যে প্রতিপক্ষের শ্বাসরোধ করে ধরাশায়ী করা হয়) দেই। এতে সে আস্তে আস্তে বসে পড়ে, তখন আমি তার কানে কানে বলি ‘এখন আমরা পুলিশের জন্য অপেক্ষা করব”।

“এইসময় লোকটি বলতে থাকে ‘আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তো শুধু সময় জিজ্ঞেস করেছি’। আমি তখন বলি, ‘আমি তোমাকে মোটেও ছাড়ছি না এবং আমি পুলিশ ডাকছি’। তীব্র ব্যাথায় কাতর হয়ে লোকটি তখন আমাকে পুলিশ ডাকার জন্য অনুরোধ করে। ‘
পুলিশ এসে লোকটিকে ভিয়ানার হাত থেকে রক্ষা করে। তার কাছ থেকে পিস্তলসাদৃশ্য যে বস্তুটি উদ্ধার করা হয় সেটি আসলে ছিল কার্ডবোড কেটে বানানো নকল পিস্তল। তাকে হাজতে পাঠানোর আগে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিতে হয়েছিল।
⇘সংবাদদাতা: সেবা ডেস্ক

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।