সেবা ডেস্ক: দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দূর করতে প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস সম্পর্কে জেনে নিন।
![]() |
| মানসিক চাপ ও স্ট্রেস দূর করার ৪টি সহজ ও কার্যকরী অভ্যাস |
মানসিক চাপ দূর করতে পারে যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস
বর্তমান সময়ে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং ক্রমাগত মানসিক চাপের কারণে অনেকেই নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে স্ট্রেস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ঘুমের তীব্র সমস্যা এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো বিষয়গুলো এখন ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে নারীদের মধ্যে এই সমস্যাগুলোর প্রকোপ একটু বেশি।
তবে প্রতিদিনের সাধারণ কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যাগুলো খুব সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই কার্যকরী উপায়গুলো:
১. পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করা
মানবদেহের হরমোনগুলো মূলত সার্কাডিয়ান রিদম বা শরীরের নিজস্ব ঘড়ির ছন্দ অনুযায়ী কাজ করে। কিন্তু অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা এবং অতিরিক্ত মাত্রায় মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিন ব্যবহার করার ফলে এই স্বাভাবিক ছন্দ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। তাই প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দিনে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করতে পারলে শরীরের হরমোনের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকতে সাহায্য করে।
২. মানসিক চাপ বা স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখা
দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে মানবশরীরে কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা শরীরের অন্যান্য হরমোনের কার্যকারিতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে যোগব্যায়াম, ধ্যান বা মেডিটেশন, ডায়েরি লেখা কিংবা প্রতিদিন কিছুটা সময় প্রকৃতির মাঝে হাঁটার মতো অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। এগুলো মনে প্রশান্তি এনে দেয় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
৩. সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত করা প্যাকেটজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত খাবার শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন—গোটা শস্য, তাজা মৌসুমি ফলমূল, সবুজ শাকসবজি এবং বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এই ধরনের প্রাকৃতিক খাবার শরীরকে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং হরমোনের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী ভূমিকা পালন করে।
৪. কায়িক শ্রম বা শরীরকে সচল রাখা
নিয়মিত কায়িক শ্রম বা শারীরিক নড়াচড়া শরীরে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে, হজম বা বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং হরমোনের সঠিক ভারসাম্য রক্ষায় দারুণভাবে সহায়তা করে। এর জন্য জিমে গিয়ে খুব ভারী বা কঠিন ব্যায়াম করার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে দ্রুত পায়ে হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং করা বা সাধারণ যোগব্যায়ামের মতো মাঝারি ধরনের শারীরিক কসরতগুলোও দীর্ঘমেয়াদে চমৎকার স্বাস্থ্যগত সুবিধা প্রদান করতে পারে।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
লাইফস্টাইল- নিয়ে আরও পড়ুন

যৌনতার বর্ণালীতে ধূসর অঞ্চল: গ্রে সেক্সুয়ালিটি

ধূসর যৌনতার প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে জেন জি-র

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা: একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের মূলমন্ত্র

সহজ আঙুল পরীক্ষায় শনাক্ত করুন গুরুতর রোগের লক্ষণ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজানে ইফতারের ঐতিহ্যবাহী খাবার কী?


খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।