৫৪ জন আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিমানটি পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা পাপুয়াতে বিধবস্ত হয়। আরোহীরা সবাই মারা গেছেন না কি বেঁচে আছেন সেই সম্পর্কে বিমান কর্তৃপক্ষ এবং ইন্দোনেশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
অভ্যন্তরীই রুটের এই বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় পাপুয়া অঞ্চলের বিনটাং উচ্চভূমিতে। এই স্থানটি বিমানটির গন্তব্যস্থল ওকসিবিল বিমানবন্দর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার বিমান পরিবহনের মহাপরিচালক স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, বিমানটি ট্যাংগক পর্বতে বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা বিমানটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ বিমান কর্তৃপক্ষকে জানায়। বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল ২ টা ৫৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি স্থানীয় সময় ২ টা ২১ মিনিটে যাত্রা করে। এটি জয়পুরার সেন্তানি বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকসিবিলে যাচ্ছিল।
এর আগে গতকাল বিকালে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান এবং উদ্ধার তত্পরতা সংস্থার প্রধান বামবাং সোয়েলিসটিও জানান, বিমানটির কোনো সংকেত পাচ্ছি না আমরা। ত্রিগানা এয়ারের এটিআর ৪২ টার্বোপ্রপ বিমানটিতে ৪৪ জন প্রাপ্ত বয়স্ক, ৫ জন শিশু এবং ৫ জন ক্রু ছিলেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে সেখানকার আবহাওয়া ভাল ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় সেখানে উদ্ধার তত্পরতা চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন। এখানে আলোর স্বল্পতা রয়েছে। এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ১৯৯১ সালে চালু হওয়ার পর ত্রিগানা ১৪ টি বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে। এর দশটি বিমান হারিয়ে গেছে। ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই সংস্থাটিকে নিষিদ্ধ করে। গত বছর ইন্দোনেশিয়ার এয়ার এশিয়ার বিমান জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হলে ১৯২ জন নিহত হয়। এছাড়াও একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয় ১৪০ জন।

