মংলা-ঘাসিয়াখালী নৌরুটের সংযোগকারী তিনটি সরকারি খাল প্রভাবশালী এক ব্যক্তি জবর দখল করে চিংড়ি চাষ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতিপূর্বে ওই খালগুলোর বাঁধ অপসারণ ও দখলমুক্ত করতে সরকারি উদ্যোগ নেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে সরকারি খাল তার দখলে রেখেছে। আর এ সকল খাল দখলমুক্ত ও বাঁধ অপসারণ না হওয়ায় মূল চ্যানেলের নাব্যতা ও স্রোত ঠিক থাকছে না। অপরদিকে এলাকাবাসীকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নে সরকারি বেশ কয়েকটি খাল রয়েছে। এই খালগুলো মংলা-ঘাসিয়াখালী চ্যানেলের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। এর মধ্যে তকতামারী, কাটাখালী ও সুরমোহলী নামক বড় বড় তিনটি খালে বাঁধ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি চাষ করছে বাগেরহাটের রামপাল থানা বিএনপির এক নেতা। মংলা-ঘাসিয়াখালী চ্যানেল সচল রাখতে সরকার সমপ্রতি এই চ্যানেলের সকল সংযোগকারী সরকারি খাল দখলমুক্তসহ বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন খালের বাঁধ অপসারণের উদ্যোগ নিয়ে কিছু খাল দখলমু্ক্তসহ বাঁধ অপসারণ করলেও রহস্যজনক কারণে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে থাকা ৩টি খাল এখনও অপসারণ হয়নি। সরকারের এই খাল ৩টি জবর দখলে রেখে তিনি প্রায় ৫শ একর জমিতে চিংড়ি চাষ করছেন। এতে সরকারি খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া মংলা-ঘাসিয়াখালী মূল চ্যানেলের পানি প্রবাহের গতি ফিরছে না।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক মাস পূর্বে মংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের পাইস্যাখালী নামক অপর আরেকটি খাল স্থানীয় প্রশাসন উন্মুক্ত করে দেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ওই খালটির গোড়ার (শেষের অংশ) অংশে পুনরায় বাঁধ দিয়ে নিজের দখলে নিয়ে চিংড়ি ঘের করে আসছেন ঐ ব্যক্তি। প্রভাবশালী এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

