মুফতী জাকির হোসাইন আশরাফ:
জিলহজ্ব মাস আরবী বর্ষের শেষ মাস।
মহান আল্লাহ বারো মাসের মধ্যে কয়েকটি মাসকে বিশেষভাবে ফজিলত পূর্ণ করেছেন।
এরমধ্যে জিলহজ্ব মাসের তাতপর্য অনেক।
বিশেষ করে জিলহজ্বের প্রথম দশদিনের গুরুত্ব আরো বেশি
এক হাদিসে তো রমজানের শেষ দশকের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের সূরা ফাজর এর মধ্যে দশরাত্রির কসম খেয়েছেন।
এই দশরাত্রি দ্বারা সমস্ত মুফাসসীরিনে কেরাম জিলহজ্বের প্রথম দশরাত্রির
কথাই বলেছেন।
আল্লামা ইবনে কাসীর রহঃ এই আয়াতের দ্বারা জিলহজ্বে প্রথম দশরাত্রির কথা বলেছেন।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৬-৫৩৭)
এছাড়া বিভিন্ন হাদিসে এই দশরাত্রির ফজিলত বর্নিত হয়েছে।
হযরত জাবের রাঃ থেকে বর্নিত,নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন,আশারায়ে জিলহজ্বের দিনের চেয়ে কোন দিনই আল্লাহর নিকট উত্তম নয়।
সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৮৫৩
অন্য জায়গায় হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে নবী সাঃ বলেছেন, আশারায়ে
জিলহজ্বের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় অন্য কোন দিন নেই।
সহীহ বুখারী-৯৬৯
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ থেকে বর্ণনা করেন নবী করীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,আমলের জন্য আল্লাহর কাছে
জিলহজ্বের প্রথম দশদিনের চেয়ে প্রিয় আর কোন দিন নেই। এর একদিনের রোজা এক
বছরের রোজার সমান এবং প্রতি রাতের ইবাদত শবে কদরের ইবাদতের সমান।
তিরমিযী-৭৫৮ ইবনে মাজাহ-১৭২৮
এসকল হাদিসের মাধ্যমে জিলহজ্বে প্রথম দশদিনের ফজিলত প্রমানীত হয়।
এই দিন গুলোতে রোজা রাখা
অর্থাত কেউ চাইলে প্রথম নয়দিন রোজা রাখতে পারে।
বেশি বেশী কোরআন তিলাওয়াত,নফল নামায,জিকির আজকার করা।
বিশেষ করে ৯ই জিলহজ্ব রোজা রাখা
-----------------------
কেউ যদি লাগাতার নয়দিন রোজা রাখে রাখতে পারবে
তবে জিলহজ্বের নবম তারিখে রোজা রাখার আলাদা গুরুত্ব আছে।
ইহা সুন্নাত
হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন
ইয়াওমে আরাফার রোজা বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী তিনি এর দ্বারা আগের
এক বছরের ও পরের এক বছরের গোনাহ মাফ করবেন।
মুসলিম -১১৬২
তিরমীযী-৭৪৯
আবু দাউদ-২৪২৫
এই হাদিসে ইয়াওমে আরাফার কথা বলা হয়েছে।
এই ইয়াওমে আরাফার ব্যাপারে অনেকেই অপব্যাখ্যা করে যেদিন আরাফার ময়দানে
হাজী সাহেবরা অবস্থান করেন সেদিন রোজা রাখেন।
আসলে ব্যাপারটা তা নয়।
কারন জিলহজ্ব মাসের দশম দিনকে আরবীতে 'ইয়াওমুন নাহর' বলা হয়।
আর নবম তারিখ কে 'ইয়ামুল আরাফা' বলা হয়
আরাফার ময়দানে হাজী সাহেব রা জিলহজ্বের নয় তারিখে অবস্থান করেন।
অথচ দূরত্ব থাকার কারনে আমাদের উপমহাদেশে সেদিন জিলহজ্বের আট তারিখ থাকে।
সুতারাং এবছর অর্থাত ২০১৫ সালের ইয়াউমে আরাফার বলা হবে ২৪শে সেপ্টেম্বর
বৃহস্পতিবার।
যদিও বুধবারে হাজী সাহেবগণ আরাফার ময়দানে অবস্থান করবেন।
বর্তমানে মিডিয়া কল্যাণে বিশ্বের সকল প্রান্তে এই দৃশ্য গুলো সম্প্রচার করা হয়।
তাই বিভ্রান্ত না হয়ে আমল করার চেষ্টা করি।
যদি কেউ নয়দিন রোজা রাখেন
তাহলে তো তার নির্দিষ্ট করার দরকার নেই
তবে কেউ যদি আরাফার দিনের রোজা রাখতে চান তাহলে নয় তারিখ বৃহস্পতিবার রাখতে হবে।
আইয়ামে তাশরীকে তাকবীর বলা
-----------------------
আইয়ামে তাশরীক ৫ দিন
জিলহজ্বের নয় তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত।
জিলহজ্বের নয় তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর নামায পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ
নামাজের পর পুরুষ মহিলা উভয়ের উপর একবার তাকবীরে তাশরিক বলা ওয়াজিব।
হযরত আলী রাঃ থেকে বর্নিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ইয়াওমে আরাফার দিন ফজরের নমাজের পরে তাকবীর বলতেন আইয়ামে
তাশরীকের শেষ দিন আসরের নামায পর্যন্ত এবং আসরের নামাযের পর তাকবীর
বলতেন।
মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা-৫৬৭৭-৫৬৭৮
আইয়ামে তাশরীকের তাকবীর হলঃ
"আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আকবার
ওয়ালিল্লাহিল হামদ"
এই তাকবীর একবার বলা ওয়াজীব
ঈদের রাতের আমলের ফজিলত
-----------------------
হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্নিত তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু বলেছেন যে
ব্যাক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাতে সাওয়াবের নিয়তে জাগরিত থেকে
আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে মাশগুল থাকবে।
তাহলে যেদিন অন্যান্য দিল মরে যাবে সেদিন তার দিল মরবেনা।
(কিয়ামতের দিন)
ইবনে মাজাহ-১৭৮২
ঈদের রাতের ব্যাপারে এত ফজিলত
অথচ আমরা ঈদের রাতকে আনন্দ উতসবের মনে দুনিয়ার ঝামেলায় এত ব্যাস্ত হয়ে
পড়ি যে ফরজ নামাজ জামাআতের সাথে পড়ার সূযোগ হয়না।
উপরের সমস্ত আলোচনা দ্বারা একথা স্পষ্ট হল
বরকতপূর্ণ জিলহজ্ব মাসের সময়গুলো অনেক মূল্যবান
তাই উতসব নয় বরং ইবাদতের সুযোগ হিসেবে বিভিন্ন ইবাদতে সময় অতিবাহিত করি।
মহান আল্লাহ আমাদের কে জিলহজ্বের সকল বরকত নসীব করুন ।
আমীন
মুফতী জাকির হোসাইন আশরাফ
ইমাম ও খতীব,
বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ
পশ্চিম বাজার,
বকশীগঞ্জ,
জামালপুর
মহান আল্লাহ বারো মাসের মধ্যে কয়েকটি মাসকে বিশেষভাবে ফজিলত পূর্ণ করেছেন।
এরমধ্যে জিলহজ্ব মাসের তাতপর্য অনেক।
বিশেষ করে জিলহজ্বের প্রথম দশদিনের গুরুত্ব আরো বেশি
এক হাদিসে তো রমজানের শেষ দশকের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের সূরা ফাজর এর মধ্যে দশরাত্রির কসম খেয়েছেন।
এই দশরাত্রি দ্বারা সমস্ত মুফাসসীরিনে কেরাম জিলহজ্বের প্রথম দশরাত্রির
কথাই বলেছেন।
আল্লামা ইবনে কাসীর রহঃ এই আয়াতের দ্বারা জিলহজ্বে প্রথম দশরাত্রির কথা বলেছেন।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৬-৫৩৭)
এছাড়া বিভিন্ন হাদিসে এই দশরাত্রির ফজিলত বর্নিত হয়েছে।
হযরত জাবের রাঃ থেকে বর্নিত,নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন,আশারায়ে জিলহজ্বের দিনের চেয়ে কোন দিনই আল্লাহর নিকট উত্তম নয়।
সহীহ ইবনে হিব্বান-৩৮৫৩
অন্য জায়গায় হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে নবী সাঃ বলেছেন, আশারায়ে
জিলহজ্বের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় অন্য কোন দিন নেই।
সহীহ বুখারী-৯৬৯
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ থেকে বর্ণনা করেন নবী করীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,আমলের জন্য আল্লাহর কাছে
জিলহজ্বের প্রথম দশদিনের চেয়ে প্রিয় আর কোন দিন নেই। এর একদিনের রোজা এক
বছরের রোজার সমান এবং প্রতি রাতের ইবাদত শবে কদরের ইবাদতের সমান।
তিরমিযী-৭৫৮ ইবনে মাজাহ-১৭২৮
এসকল হাদিসের মাধ্যমে জিলহজ্বে প্রথম দশদিনের ফজিলত প্রমানীত হয়।
এই দিন গুলোতে রোজা রাখা
অর্থাত কেউ চাইলে প্রথম নয়দিন রোজা রাখতে পারে।
বেশি বেশী কোরআন তিলাওয়াত,নফল নামায,জিকির আজকার করা।
বিশেষ করে ৯ই জিলহজ্ব রোজা রাখা
-----------------------
কেউ যদি লাগাতার নয়দিন রোজা রাখে রাখতে পারবে
তবে জিলহজ্বের নবম তারিখে রোজা রাখার আলাদা গুরুত্ব আছে।
ইহা সুন্নাত
হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন
ইয়াওমে আরাফার রোজা বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী তিনি এর দ্বারা আগের
এক বছরের ও পরের এক বছরের গোনাহ মাফ করবেন।
মুসলিম -১১৬২
তিরমীযী-৭৪৯
আবু দাউদ-২৪২৫
এই হাদিসে ইয়াওমে আরাফার কথা বলা হয়েছে।
এই ইয়াওমে আরাফার ব্যাপারে অনেকেই অপব্যাখ্যা করে যেদিন আরাফার ময়দানে
হাজী সাহেবরা অবস্থান করেন সেদিন রোজা রাখেন।
আসলে ব্যাপারটা তা নয়।
কারন জিলহজ্ব মাসের দশম দিনকে আরবীতে 'ইয়াওমুন নাহর' বলা হয়।
আর নবম তারিখ কে 'ইয়ামুল আরাফা' বলা হয়
আরাফার ময়দানে হাজী সাহেব রা জিলহজ্বের নয় তারিখে অবস্থান করেন।
অথচ দূরত্ব থাকার কারনে আমাদের উপমহাদেশে সেদিন জিলহজ্বের আট তারিখ থাকে।
সুতারাং এবছর অর্থাত ২০১৫ সালের ইয়াউমে আরাফার বলা হবে ২৪শে সেপ্টেম্বর
বৃহস্পতিবার।
যদিও বুধবারে হাজী সাহেবগণ আরাফার ময়দানে অবস্থান করবেন।
বর্তমানে মিডিয়া কল্যাণে বিশ্বের সকল প্রান্তে এই দৃশ্য গুলো সম্প্রচার করা হয়।
তাই বিভ্রান্ত না হয়ে আমল করার চেষ্টা করি।
যদি কেউ নয়দিন রোজা রাখেন
তাহলে তো তার নির্দিষ্ট করার দরকার নেই
তবে কেউ যদি আরাফার দিনের রোজা রাখতে চান তাহলে নয় তারিখ বৃহস্পতিবার রাখতে হবে।
আইয়ামে তাশরীকে তাকবীর বলা
-----------------------
আইয়ামে তাশরীক ৫ দিন
জিলহজ্বের নয় তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত।
জিলহজ্বের নয় তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর নামায পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ
নামাজের পর পুরুষ মহিলা উভয়ের উপর একবার তাকবীরে তাশরিক বলা ওয়াজিব।
হযরত আলী রাঃ থেকে বর্নিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ইয়াওমে আরাফার দিন ফজরের নমাজের পরে তাকবীর বলতেন আইয়ামে
তাশরীকের শেষ দিন আসরের নামায পর্যন্ত এবং আসরের নামাযের পর তাকবীর
বলতেন।
মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা-৫৬৭৭-৫৬৭৮
আইয়ামে তাশরীকের তাকবীর হলঃ
"আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আকবার
ওয়ালিল্লাহিল হামদ"
এই তাকবীর একবার বলা ওয়াজীব
ঈদের রাতের আমলের ফজিলত
-----------------------
হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্নিত তিনি বলেন নবী সাল্লাল্লাহু বলেছেন যে
ব্যাক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাতে সাওয়াবের নিয়তে জাগরিত থেকে
আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে মাশগুল থাকবে।
তাহলে যেদিন অন্যান্য দিল মরে যাবে সেদিন তার দিল মরবেনা।
(কিয়ামতের দিন)
ইবনে মাজাহ-১৭৮২
ঈদের রাতের ব্যাপারে এত ফজিলত
অথচ আমরা ঈদের রাতকে আনন্দ উতসবের মনে দুনিয়ার ঝামেলায় এত ব্যাস্ত হয়ে
পড়ি যে ফরজ নামাজ জামাআতের সাথে পড়ার সূযোগ হয়না।
উপরের সমস্ত আলোচনা দ্বারা একথা স্পষ্ট হল
বরকতপূর্ণ জিলহজ্ব মাসের সময়গুলো অনেক মূল্যবান
তাই উতসব নয় বরং ইবাদতের সুযোগ হিসেবে বিভিন্ন ইবাদতে সময় অতিবাহিত করি।
মহান আল্লাহ আমাদের কে জিলহজ্বের সকল বরকত নসীব করুন ।
আমীন
মুফতী জাকির হোসাইন আশরাফ
ইমাম ও খতীব,
বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ
পশ্চিম বাজার,
বকশীগঞ্জ,
জামালপুর
