কোরআন হাদীসের আলোকে হজ্বের গুরুত্ব ও ফজিলত

Seba Hot News
মুফতী জাকির হোসাইন আশরাফ:

মহান আল্লাহর সমস্ত হুকুম আহকাম গুলোর মধ্যে এমন কিছু আহকাম  যেগুলোতে
শারীরিক পরিশ্রম বেশী হয়।যেমন নামায, রোজা।
আবার কিছু আহকাম এমন যেগুলোর মধ্যে অর্থের উপর নির্ভরশীল। যেমন যাকাত
আবার কোন হুকুমে যেখানে পরিশ্রম অর্থ উভয়টির প্রয়োজন হয়।
যেমন -হজ্বে বায়তুল্লাহ।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ্ব হল অন্যতম।
প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যাক্তির উপর হজ্ব করা আবশ্যক।
হজ্বের আহকাম সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,মানুষের
মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ রাখে তাদের উপর আল্লাহর
উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ্ব করা ফরজ।আর যদি কেউ অস্বীকার করে তাহলে তোমাদের
জেনে রাখা উচিত যে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি জগতের মুখাপেক্ষী নন।(সূরা আলে
ইমরান ৩/৯৭)
এই আয়াতে হজ্ব যাদের উপর ফরজ তাদের পরিচয় তুলে ধরেছেন।
সুতারাং হজ্ব আদায়ে সক্ষম এমন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয়
খরচাপাতি ও আসবাবপত্রের অতিরিক্ত,হজ্বে যাওয়া আসার ব্যয় এবং হজ্ব
আদায়কালীন সাংসারিক ব্যয় নির্বাহে সক্ষম এমন সামর্থবান ব্যক্তির উপর হজ্ব
আদায় করা ফরজ।
জীবনে একবার হজ্ব ফরজ হয়।
ফরজ হজ্ব আদায়ের পর যারা হজ্ব করবে সেটা নফল বলে গণ্য হবে।
হজ্ব ফরজ হলে দেরি করা উচিত নয়।কেননা কেউ তো জানেনা কার মৃত্যু কখন হবে।
হাদিসে হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ বর্ণনা করেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,যে ব্যাক্তি হজ্ব করার ইচ্ছে করে সে যেন
তাড়াতাড়ি তা আদায় করে নেয় কারন যে কোন সময় অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা
বাহনের ব্যবস্থা না থাকতে পারে।অথবা অন্য কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
সুনানে ইবনে মাজাহ-২৮৮৩
সুনানে আবু দাউদ-১৭৩২
হজ্বের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস এসেছে তার মধ্যে হলঃ
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,যে ব্যাক্তি হজ্ব করে আর তাতে কোনরুপ অশ্লীল বা
অন্যায় আচরণ করেনা তাঁর পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
সুনানে তিরমিযী-৮১১
অন্য হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বলেন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে ব্যাক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্ব করল এবং
অশ্লীল কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকল সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে
হজ্ব থেকে ফিরে আসবে যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলো।
বুখারী-১৫২১
মুসলিম -১৩৫০
আরেকটি হাদিস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ থেকে বর্নিত তিনি
বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,তোমরা
হজ্ব এবং উমরা পরপর একত্রে পালন কর।কেননা এ দুটি (হজ্ব ও উমরা) দারিদ্র ও
গুনাহসমূহ এমনভাবে দূর করে দেয় যেমন কামারের হাপর লোহা ও সোনা রুপার ময়লা
দূর করে দেয়।
আর হজ্বে মাবরুরের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিরমিযী-৮১০
হজ্ব ও উমরাকারীর দুআ কবুল করা হয়
হযরত জাবের রাঃ বর্ণনা করেন.রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইরশাদ করেছেন,হজ্ব ও উমরাকারীগণ আল্লাহর প্রতিনিধি দল।তারা দুআ করলে
তাদের দুআ কবুল করা হয় এবং তারা কিছু চাইলে তাদের কে তা দেওয়া হয়।
মুসনাদে বাযযার-১১৫৩
এ ব্যাপারে অন্য আরেকটি হাদিস হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বর্ণনা
করেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন আল্লাহ
তাআলা হাজীদের গুনাহ ক্ষমা করেন এবং হাজী যাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
করেন তাদেরকেও ক্ষমা করেন।
সহীহ ইবনে খুযাইমা-২৫১৬
হজ্ব করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার ফজিলত
ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত,
একব্যক্তি আরাফতের ময়দানে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সাথে উকুফরত ছিলেন। হঠাত
তিনি বাহন থেকে নীচে পড়ে গেলেন।এতে তার ঘাড় মটকে গেল এবং তিনি মারা
গেলেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তাকে বড়ইপাতা সিদ্ধ করা পানি দিয়ে গোসল
করাও,তার দুই কাপড় দিয়ে তাকে কাফন পড়াও,তাকে সুগন্ধি লাগিওনা এবং মাথাও
আবৃত করোনা।কেননা তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।
বুখারী-১২৬৭
মুসলিম-১২০৬
হজ্ব ফরজ হওয়া সত্বেও হজ্ব না করলে হাদিস  কঠিন ধমকী এসেছে।
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা থেকে বর্নিত,যে ব্যাক্তি হজ্ব করার সামর্থ
রাখে তবুও হজ্ব করেনা,
সে ইহুদী হয়ে মৃত্যুবরণ করল,কী খ্রীষ্টান হয়ে তার কোন পরোয়া আল্লাহর নেই।
তাফসীরে ইবনে কাসীর-১/৫৭৮
সর্বোপরি একজন মুমীনের জীবনের  হৃদয়ের প্রেরণা থাকা উচিত বায়তুল্লাহর তাওয়াফের।
যাদের সামর্থ আছে তারা যেন তাড়াতাড়ি আদায় করে ফেলি।
আর যাদের সামর্থ নাই তারা মহান আল্লাহর কাছে দুআ করা শুরু করি।
মহান আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সকলকে জীবনে একবার হলেও বায়তুল্লাহর মুসাফির বানান।
সেইসাথে আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন দুজাহানের সরদার হযরত রাসূলে কারীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা আতহারে গিয়ে বারবার সালাম জানাতে
পারি সেই তৌফিক আমাদের দান করেন।
আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।

মুফতী জাকির হোসাইন আশরাফ
ইমাম ও খতীব,
বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ
বকশীগঞ্জ পশ্চিমবাজার,
বকশীগঞ্জ,জামালপুর

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top