চট্টগ্রাম বন্দর চোরাচালানিদের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহূত হচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সবার মধ্যে এখন এই ধারণা বদ্ধমূল। তারা মনে করেন, কাস্টমস ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের কোনো যোগসূত্র ও ইন্ধন ছাড়া এটা হতে পারে না।
চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, তার দৃঢ় বিশ্বাস নিষিদ্ধ ও অবৈধ পণ্য আনা-নেয়ার সঙ্গে অবশ্যই কাস্টমস ও বন্দরের কেউ না কেউ জড়িত রয়েছেন। কারণ কারো ইঙ্গিত বা জড়িত থাকা ছাড়া কেউ কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে চোরাচালান করতে যাবে না। ২০১২-১৩ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমসে মিথ্যা ঘোষণায় আনা মদ, বিয়ার ও কাপড়ের চালান ধরা পড়ার পর ঠিক একই ধরনের কথা বলেছিলেন সে সময়ের চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মারুফ হোসেন। তিনি তখন বলেন, কারো ইঙ্গিত ছাড়া কেউ এতো বড় রিস্ক নেয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্যতেলের সঙ্গে আনা কোকেন ধরা পড়ায় দেশে-বিদেশে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ ভারতীয় মুদ্রার চালান ধরা পড়া নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে বন্দরের পণ্য পরীক্ষা পদ্ধতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুরো কাস্টমস এখনও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চলছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের অধীনে বন্দরের বিভিন্ন গেটে বসানো কন্টেইনার স্ক্যানার মেশিনগুলো খুবই পুরনো। এগুলো দিয়ে কোনো দ্রব্যের স্বচ্ছ ইমেজ পাওয়া যায় না। আগে স্ক্যানারের দায়িত্বে ছিলেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র মেটাল ও ননমেটালের মধ্যে পার্থক্য অস্বচ্ছভাবে দেখা যায়। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে অনেক অত্যাধুনিক স্ক্যানার ব্যবহার করা হয়। যা দিয়ে স্বচ্ছ ইমেজ পাওয়া সম্ভব। গাড়িতে থাকা ওই আধুনিক স্ক্যানার কোনো কন্টেইনারের পাশ দিয়ে গেলে ওই কন্টেইনারের মধ্যে থাকা মালামালের স্বচ্ছ ইমেজ পাওয়া যায়। ওই ধরনের স্ক্যানার কাস্টমসের জন্য অতি জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার কন্টেইনারের মধ্যে কোনো অবৈধ ও ক্ষতিকর পদার্থ থাকলে তা খুঁজে বের করা খুবই কঠিন কাজ। তাছাড়া প্রতিদিন শিল্পের কাঁচামাল, দুধসহ পাউডার জাতীয় বিভিন্ন পণ্য, রাসায়নিক এবং ভোজ্যতেলসহ তরল রাসায়নিক চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হচ্ছে। কোনো কোনো পণ্য সরাসরি কন্টেইনারসহ আমদানিকারকের শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ইয়ার্ডে চলে যায়। আধুনিক স্ক্যানার পাওয়া গেলে এসব কন্টেইনার ভালভাবে পরীক্ষা করে ছাড়া সম্ভব হতো। পরিস্থিতির উন্নতি হতো।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বন্দর ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে বন্দরের বিভিন্ন গেটে থাকা পাঁচ স্ক্যানার সরিয়ে আধুনিক স্ক্যানার বসানোর দাবি করা হয়। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় স্ক্যানার পুরনো হওয়ায় কিছুক্ষণ চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে স্ক্যানিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়ানো কন্টেইনারসমূহের জট সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে চোখে দেখে কন্টেইনার ছেড়ে দেয়া হয়। এই পরিস্থিতির সুযোগ যে কেউ নিতে পারে। এটি বিপজ্জনকও বটে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে অবৈধ ও মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আসার অসংখ্য নজির রয়েছে। একইভাবে সম্পূর্ণ কন্টেইনার ও কন্টেইনারের অনেক পণ্য গায়েব হয়ে যাওয়ার নজিরও রয়েছে। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস সন্দেহজনক মনে করে একটি কন্টেইনার পরবর্তী সময়ে তল্লাশি করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু সে কন্টেইনারটি গায়েব হয়ে যায়। অদ্যাবধি সে কন্টেইনারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটি গঠন করেও কাজ হয়নি।
চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, তার দৃঢ় বিশ্বাস নিষিদ্ধ ও অবৈধ পণ্য আনা-নেয়ার সঙ্গে অবশ্যই কাস্টমস ও বন্দরের কেউ না কেউ জড়িত রয়েছেন। কারণ কারো ইঙ্গিত বা জড়িত থাকা ছাড়া কেউ কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে চোরাচালান করতে যাবে না। ২০১২-১৩ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমসে মিথ্যা ঘোষণায় আনা মদ, বিয়ার ও কাপড়ের চালান ধরা পড়ার পর ঠিক একই ধরনের কথা বলেছিলেন সে সময়ের চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মারুফ হোসেন। তিনি তখন বলেন, কারো ইঙ্গিত ছাড়া কেউ এতো বড় রিস্ক নেয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্যতেলের সঙ্গে আনা কোকেন ধরা পড়ায় দেশে-বিদেশে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ ভারতীয় মুদ্রার চালান ধরা পড়া নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে বন্দরের পণ্য পরীক্ষা পদ্ধতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুরো কাস্টমস এখনও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চলছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের অধীনে বন্দরের বিভিন্ন গেটে বসানো কন্টেইনার স্ক্যানার মেশিনগুলো খুবই পুরনো। এগুলো দিয়ে কোনো দ্রব্যের স্বচ্ছ ইমেজ পাওয়া যায় না। আগে স্ক্যানারের দায়িত্বে ছিলেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র মেটাল ও ননমেটালের মধ্যে পার্থক্য অস্বচ্ছভাবে দেখা যায়। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে অনেক অত্যাধুনিক স্ক্যানার ব্যবহার করা হয়। যা দিয়ে স্বচ্ছ ইমেজ পাওয়া সম্ভব। গাড়িতে থাকা ওই আধুনিক স্ক্যানার কোনো কন্টেইনারের পাশ দিয়ে গেলে ওই কন্টেইনারের মধ্যে থাকা মালামালের স্বচ্ছ ইমেজ পাওয়া যায়। ওই ধরনের স্ক্যানার কাস্টমসের জন্য অতি জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজার হাজার কন্টেইনারের মধ্যে কোনো অবৈধ ও ক্ষতিকর পদার্থ থাকলে তা খুঁজে বের করা খুবই কঠিন কাজ। তাছাড়া প্রতিদিন শিল্পের কাঁচামাল, দুধসহ পাউডার জাতীয় বিভিন্ন পণ্য, রাসায়নিক এবং ভোজ্যতেলসহ তরল রাসায়নিক চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হচ্ছে। কোনো কোনো পণ্য সরাসরি কন্টেইনারসহ আমদানিকারকের শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ইয়ার্ডে চলে যায়। আধুনিক স্ক্যানার পাওয়া গেলে এসব কন্টেইনার ভালভাবে পরীক্ষা করে ছাড়া সম্ভব হতো। পরিস্থিতির উন্নতি হতো।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বন্দর ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে বন্দরের বিভিন্ন গেটে থাকা পাঁচ স্ক্যানার সরিয়ে আধুনিক স্ক্যানার বসানোর দাবি করা হয়। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় স্ক্যানার পুরনো হওয়ায় কিছুক্ষণ চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে স্ক্যানিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়ানো কন্টেইনারসমূহের জট সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে চোখে দেখে কন্টেইনার ছেড়ে দেয়া হয়। এই পরিস্থিতির সুযোগ যে কেউ নিতে পারে। এটি বিপজ্জনকও বটে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে অবৈধ ও মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আসার অসংখ্য নজির রয়েছে। একইভাবে সম্পূর্ণ কন্টেইনার ও কন্টেইনারের অনেক পণ্য গায়েব হয়ে যাওয়ার নজিরও রয়েছে। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস সন্দেহজনক মনে করে একটি কন্টেইনার পরবর্তী সময়ে তল্লাশি করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু সে কন্টেইনারটি গায়েব হয়ে যায়। অদ্যাবধি সে কন্টেইনারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটি গঠন করেও কাজ হয়নি।

