এখন পর্যন্ত ভিডিওর ক্ষেত্রে ফোরকে রেজ্যুলেশনই সর্বোচ্চ রেজ্যুলেশন হিসেবে স্বীকৃত। বেশিরভাগ ডিভাইসই এই উচ্চ রেজ্যুলেশন সমর্থন করে না এখনও পর্যন্ত। তবে এই ফোরকে রেজ্যুলেশনের চাইতেও ৩০ গুণ বেশি উচ্চ রেজ্যুলেশনের ভিডিও ধারণ করা যায় এমন একটি ক্যামেরা সেন্সর তৈরি করেছে ক্যানন।
ক্যাননের তৈরি এই ক্যামেরা সেন্সরের রেজ্যুলেশন ২৫০ মেগাপিক্সেল! হ্যাঁ, এটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রেজ্যুলেশনের কোনো ক্যামেরা সেন্সর। ডিজিটাল ক্যামেরায় ব্যবহারের উপযোগী এই বিশেষ সেন্সর এতটাই শক্তিশালী যে এর মাধ্যমে ১৮ কিলোমিটার বা প্রায় ১১.১ মাইল দূর থেকেও কোনো বিমানের ছবি তুললে সেই বিমানের গায়ের লেখাগুলো স্পষ্টভাবেই পড়া সম্ভব।
ক্যামেরাপ্রেমীরা এমন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সরের কথা শুনে খুশি হয়ে উঠলেও তাদের এই খুশি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কেননা, এই দানবাকৃতির (রেজ্যুলেশনসাপেক্ষে) সেন্সর নিত্যব্যবহার্য ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা বা স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হবে না। বরং সার্ভেইল্যান্স বা অন্যান্য বিশেষায়িত ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকবে। ক্যানন জানিয়েছে, এই সেন্সরে ধারণকৃত ছবি বা ভিডিওর রেজ্যুলেশন হবে ২৫০ মিলিয়ন পিক্সেল বা ১৯,৫৮০ পিক্সেল বাই ১২,৬০০ পিক্সেল। এই বিপুল পরিমাণ তথ্য ধারণ ও তা সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ, জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। তবে এসব সীমাবদ্ধতা ক্যানন সফলভাবেই অতিক্রম করেছে।
ক্যানন জানিয়েছে, তারা এই চিপ থেকে প্রতি সেকেন্ডে ১২৫ বিলিয়ন পিক্সেল তথ্য রিড করতে পারবে। ফলে এই সেন্সরের বৃহদাকৃতির ছবি ধারণ করতে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। রেজ্যুলেশনের দিক থেকে এটি সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেও এর আকার ২৯.২ মিলিমিটার (১.১৫ ইঞ্চি) বাই ২০.২ মিলিমিটার (০.৭৯ ইঞ্চি) যা ৩৫ মিলিমিটার ডিজিটাল ক্যামেরার সেন্সরগুলোর চাইতে অনেকটা ছোট। মূল ধারার ক্যামেরায় এর ব্যবহার না থাকায় এর জন্য অবশ্য সমালোচনাও করছেন কিছু প্রযুক্তি বিশ্লেষক। তবে ক্যানন বলছে, বিশেষায়িত কাজের জন্যও এই ধরনের উচ্চ রেজ্যুলেশনের ক্যামেরা সেন্সরের উদ্ভাবন বিশ্ববাসীর সামনে নানা ধরনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দেবে।

