সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে খবর প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী পাকিস্তানি সংবাপদপত্র দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। শুধু তাই নয় ওই পাঁচজনের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে 'আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিবাসন পুলিশ'-এর কাছে বাংলাদেশ সরকার একটি চিঠি দিয়েছে বলে প্রকাশিত ওই খবরে দাবি করা হয়।
তবে বাংলাদেশ সরকারের কোনো বক্তব্য ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। গত সপ্তাহে এই পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিকসহ সাতজনের সাক্ষ্য নিতে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে দাবি করা হয়, ওই পাকিস্তানিদের নাম ও ছবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিবাসন পুলিশের কাছে জমা দিয়ে তাদের কালোতালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিবাসন পুলিশ যোগাযোগ করেছে বলেও খবরে দাবি করা হয়। ওই পাঁচ পাকিস্তানি হলেন, পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মিয়া সুমরো, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইসহাক খান খাকওয়ানি, ডন মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারপারসন আম্বার হারুন সাইগল, মুনিব আরজুমান্দ খান ও রিয়াজ আহমেদ। সাবেক তথ্যমন্ত্রী খাওকওয়ানি এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলেন, তারা বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে স্বাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আবেদন করে। কিন্তু তাদের সে আবেদন প্রত্যাখাত হয়। বাংলাদেশ সরকার তাদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায় হতাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই।
এ সময় তিনি দাবি করেন আন্তর্জাতিক সাক্ষী হওয়ায় তাদের প্রবেশে আইনগত কোনো বাধা নেই। আপিল বিভাগে রিভিউ শুনানির অপেক্ষায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাফাই সাক্ষীর আবেদনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, রিভিউ আবেদনের শুনানিতে সাফাই সাক্ষ্যের সুযোগ নেই। তবে সাক্ষ্য নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল। ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক রায় প্রদানের সময় বলেছিলেন, আমরা নিশ্চিত যে ১৯৭১ সালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সংঘটিত অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ সাজা হওয়া প্রয়োজন। মামলায় ৭ জন সাক্ষীর নাম বলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যাদের পাঁচজনই পাকিস্তানি। তারা যখন তাদের হলফনামা কোর্টে পাঠান তখন সুমরো বাদে সকলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। প্রিয়.কম।

