সৈয়দপুরের ‘ডেঞ্জারম্যান’ রাশেদের ‘মৃত্যুকূপ’ খেলা

S M Ashraful Azom
মৃত্যুকূপে মোটর সাইকেল চালনায় নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ইতোমধ্যে সকলের দৃষ্টিতে এসেছেন এস এম রাশেদ। শুধু দেশেই নয় ভারত ও নেপালের মানুষদেরও মন জয় করে এসেছেন। দেশে এক সময় সার্কাস ও যাত্রাপালায় বিভিন্ন রকম খেলার প্রদর্শন করা হত। মোটর সাইকেল বা কারের প্রদর্শনী তেমন একটা দেখা যেত না। এরই মধ্যে বিভিন্ন শহরে এ প্রদর্শনী বেশ জনপ্রিয় ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে মৃত্যুকূপ খেলা। রোমাঞ্চ, শ্বাসরুদ্ধকর এ খেলাটি না দেখলে বোঝার কোনো উপায় নেই। 
 
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের ইসলামবাগ এলাকার গোলাম রব্বানীর পুত্র এস এম রাশেদ (২৮) তরুণ বয়সে এক বিস্ময়কর প্রতিভা নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঞ্জার গেম বা মৃত্যুকূপ খেলার আয়োজন করে পেয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কার। তিনি প্রথমে এ পেশায় আসেন বাবা এবং বড় ভাইয়ের হাত ধরে ২০০৩ সালে। বাবা সরকারি চাকরি করতেন পাশাপাশি মোটর সাইকেল খেলার প্রদর্শনী করতেন। বয়সের ভারে বাবা এ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন কিন্তু তিনি ও তার বড় ভাই সারোয়ার হোসেন নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছেন দুঃসাহসিক এ খেলাটি।
 
চার ভাই তিন বোনের মধ্যে রাশেদ তৃতীয়। সৈয়দপুর রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও সৈয়দপুর মহাবিদ্যালয় থেকে পড়া লেখা শেষ করেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ খেলা প্রদর্শনী করে সকল বয়সের মানুষদের আনন্দ দিয়ে যাচ্ছেন। এ বছর ঢাকা বাণিজ্য মেলায় অংশ নিয়ে সব বয়সী মানুষের মন জয় করেন। সহযোগিতা পেলে বিদেশে এ খেলায় অংশ নিয়ে দেশে সুনাম বয়ে আনতে চান তিনি। শুধু এ খেলায় নয় রাশেদের গানের গলাও বেশ মধুর। গান গেয়ে বন্ধুুদের আড্ডাকে মাতিয়ে দেন তিনি। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সমাজ সেবামূলক সংগঠনেরও সদস্য। মানুষের দুঃখ দেখলে নিজের সবকিছু উজাড় করে দিতে চান। এ সব কারণে বন্ধুদের কাছেও তিনি খুব প্রিয় এবং পরিবারের সকলের মধ্যমণি।
 
রাশেদ বলেন, ১৯৬২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দাদা থেকে শুরু করে আমরা আমাদের প্রজন্ম পর্যন্ত সর্বমোট তিন পুরুষ এ পেশার হাল ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। যা এ পেশায় কেউ ধরে রাখতে পারেনি। দেশের যেসব জায়গায় প্রদর্শনী করেছি যেখানকার দর্শনার্থীরা আমাদের সুনাম করেছেন।  তিনি বলেন, আবার অনেকে খেলা শেষে আমাকে স্পর্শ করে দেখেন আমি আসলে মানুষ নাকি ভূত। খেলা প্রদর্শনকালে অনেকবার দুঘর্টনায় আহতও হয়েছি। চিকিৎসা ভার নিজেরই নিতে হয়েছে। সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। বর্তমানে এ খেলাটি ক্রিকেট, ফুটবলের মত দর্শক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top