চীন ও তাইওয়ান একই পরিবারের অংশ বলে মন্তব্য করেছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। ৬০ বছর পর শনিবার সিঙ্গাপুরে তাইওয়ানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে এই অবস্থানের কথা জানলো চীন।
প্রথমে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেওউর সঙ্গে করমর্দন করেন শি জিন পিং। বিলাসবহুল একটি হোটেলে বৈঠকের শুরুতেই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট বলেন, 'দুপক্ষেরই উচিৎ একে অপরের মূল্যবোধ ও জীবন ধারণের পদ্ধতির প্রতি সম্মান দেখানো।' এর জবাবে, 'আমরা একই পরিবারের অংশ' বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।
আজকের দিনকে ইতিহাস স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, 'এই বৈঠকের মাধ্যমে ফরমোজা প্রণালীর দুইপাশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।'
২০০৮ সালে তাইওয়ানের ক্ষমতায় মা আসার পর চীনের সঙ্গে ভূখণ্ডটির সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। গত নয় বছরে দুপক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক লেনদেন বৃদ্ধি, পর্যটনের বিকাশ ও বেশ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এতে তাইওয়ানের ওপর চীনের প্রভাব ক্রমবর্ধমান বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
বৈঠকের প্রতিবাদে শনিবার তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেইতে পৃথক বিক্ষোভ হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এক দল বিক্ষোভকারী তাইওয়ানের পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সকালে প্রেসিডেন্ট মা ইং সিঙ্গাপুরে যাত্রার উদ্দেশে বিমানবন্দরে এলে সেখানে বিক্ষোভ করে আরেক দল বিক্ষোভকারী। এখান থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
চেন নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে যিনি জনগণের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করেন না, সেই মা ইংয়ের সাগরের অপর পাড়ের নেতার সঙ্গে বৈঠক করার কোনো অধিকার নেই।
১৯৪৯ সালে মাও সেতুং এর নেতৃত্বে আধুনিক চীন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশটির কমিউনিস্ট পার্টিবিরোধীরা তাইওয়ানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তাইওয়ানের নেতারা তাদের ভূখণ্ডকে স্বাধীন বলে মনে করলেও চীনের হুমকির মুখে কখনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি।
অপরদিকে চীন মনে করে, তাইওয়ান চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি প্রদেশ মাত্র। ভবিষ্যতে দুই ভূখণ্ডের মিলন হবে। এর জন্য প্রয়োজনে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে চীন। সূত্র: বিবিসি

