সেবা ডেস্ক: আগামী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বাজেটের আকার ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও এনবিআরের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এটি এখনও চূড়ান্ত নয়। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পুনর্মূল্যায়নের সময় আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ঠিক করা হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত বাজেট সংক্রান্ত জাতীয় কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুবব আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে করিব, এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানসহ সংশিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ নিয়ে এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। বাজেটের আকার নির্ধারণ নিয়ে আরো কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হবে। এরই ধারাবহিকতায় এনবিআরের পক্ষ থেকে আগামী অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য আকার প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া এ বৈঠকে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের আয়-ব্যয় পর্যালোচনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন অত্যন্ত সন্তোষজনক। দুয়েকটি ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় চলতি বছরে ২২ শতাংশ বেশি রাজস্ব আহরিত হয়েছে। তবে কম্পট্রোলার অডিটর জেনারেল (সিএজি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর হিসাবের মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার গড়মিল আছে। সেটি সমাধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্র নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেশি হয়েছে। এ কারণে ব্যাংক থেকে আমাদের কোনও টাকা ধার করতে হয়নি। সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিচ্ছে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেড়ে যাচ্ছে। এখন সঞ্চয়পত্রের এ সুদের হার সমন্বয় করার চিন্তা করছি আমরা। যা আগামী বাজেটে সমন্বয় করা হবে।
চলমান বৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই ভালো বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের ২৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে প্রকল্পের অর্থ শেষ হয়ে গেছে। তাদের টাকার প্রয়োজন। এজন্য আগামী বাজেটেও পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। ভতুর্কির বিষয়ে তিনি বলেন, অচিরেই বিদ্যুতে ভতুর্কির জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে সরকার বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৮ থেকে ১৯ সালের মধ্যেই আমরা এটা অর্জন করতে পারব। এজন্য কৃষিতে যেভাবে প্রণোদনা দেয়া হয়, ঠিক সে রকম বিদ্যুতেও দেয়া হবে। এরফলে সাধারণ মানুষ কম দামে বিদ্যুত্ পাবে। এখনো প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। তবে আরও নতুন করে একটু-আধটু সমন্বয়ের কথা ভাবা হচ্ছে। রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণ প্রমঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুই কারণে রেমিটেন্স কমে যাচ্ছে। প্রথমত; অবৈধ পথে অর্থ আসা বা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত; বিদেশে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের বেতনও কিছুটা কমেছে। এ সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাছাড়া ডলারের মূল্যমান ৮০ টাকা হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা মিটে যাবে এবং প্রবাসীয় আয় বাড়বে।
