সেবা ডেস্ক: অবসরে যাওয়ার ছয় মাস পরেও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসব শিক্ষক অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা (ভাতাদি) পাননি তাঁদের তালিকা প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আগামী তিন মাসের মধ্যে এ তালিকা প্রণয়ন করে আদালতে দাখিল করতে রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (শিক্ষক ও কর্মচারী) ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সদস্য সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরকালীন সুযোগ- সুবিধা সংক্রান্ত ফান্ডে কত টাকা আছে তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।
‘জীবনসায়াহ্নে ৭৩ হাজার শিক্ষকের আহাজারি’ শিরোনামে গত ৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা জীবন শিক্ষকতা করে অবসর গ্রহণের পর জীবন সায়াহ্নে এসে প্রায় ৭৬ হাজার শিক্ষক আহাজারি করছেন কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার অর্থ না পেয়ে। শিক্ষকদের এমপিওর (মান্থলি পে অর্ডার) ২ শতাংশ অর্থ কেটে রাখা হয় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট তহবিলে। আর ৪ শতাংশ কেটে রাখা হয় অবসর সুবিধা বোর্ড তহবিলে। মাসিক বেতনের অংশ থেকে কেটে রাখা অর্থ এই খাতে জমা রাখলেও চাকরি শেষে তা পাওয়ার জন্য পোহাতে হচ্ছে অশেষ ভোগান্তি। বার্ধক্যে উপনীত শিক্ষকরা জীবনের শেষ সময়গুলোয় একটু ভালো থাকতে, সুস্থ থাকতে এই টাকার জন্য রাজধানীর নীলক্ষেতে ব্যানবেইস ভবনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। শিক্ষকদের অনেকেই মারা গেছেন অবসর ভাতার অর্থ হাতে না পেয়েই। এ অর্থের জন্য আবেদন করলেও তাদের অর্থ ছাড় হচ্ছে চার থেকে ছয় বছর পর।
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রিট করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে অবসরে যাওয়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের সুবিধা প্রদানে ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং আইন অনুসারে এসব সুবিধা প্রদানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।-বাসস।