সেবা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসি) আয়োজিত কনফারেন্স অব পার্টিস’র (কপ-২২) উচ্চ পর্যায়ের দুটি পর্বে যোগ দিতে তিনদিনের সরকারি সফরে মরক্কোর সাবেক রাজকীয় শহর মারাকাশ গেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি-১০১৯) প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে গতকাল সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মারাকাশের উদ্দেশ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় মারাকাশের মেনারা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারের হোটেল লা মামৌনিয়াতে নেয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এ হোটেলেই অবস্থান করবেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।
ইউএনএফসিসি (কপ-২২) বৈশ্বিক জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন হিসেবে সুপরিচিত। প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সকালে কপ-২২’র উচ্চ পর্যায়ের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। বিকালে তিনি কপ-২২, সিএমপি-১২ এবং সিএমএ-১ যৌথ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বক্তৃতা করবেন। বাব ইগলি কনফারেন্স ভেন্যুতে মরক্কোর বাদশাহ ৬ষ্ঠ মোহাম্মেদ, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন ও ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি পেট্রিসিয়া এসপাইনোসা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং এই বিরাট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ও সমন্বিত প্রয়াস এগিয়ে নিতে প্রচারাভিযান জোরদার করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একইদিন অন্যান্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরক্কোর বাদশাহ ৬ষ্ঠ মোহাম্মদের দেয়া ভোজসভায় যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী ১৬ নভেম্বর দেশে ফিরবেন।
৭ নভেম্বর থেকে শুরু কপ-২২ চলবে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত। কপ-২১ ’এ গৃহীত ঐতিহাসিক চুক্তির পর এটাই হচ্ছে প্রথম সম্মেলন। গত বছর ডিসেম্বরে প্যারিসে কপ-২১ ’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাসে ১৯৯৪ সালে জলবায়ু সংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন শুরু হয়। এই কনভেনশনের সর্বোচ্চ পরিচালনা কর্তৃপক্ষকে কপ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই দেশগুলো কনভেনশনের কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও সমঝোতা প্রক্রিয়া জোরদারে বছরে একবার একত্রিত হন। এ পর্যন্ত ১৯৫ দেশ এতে অনুসমর্থন দিয়েছে।
সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদায় জানাতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, কূটনৈতিক কোরের ডিন, তিন বাহিনীর প্রধানগণ প্রমুখ। এদিকে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব আগেই মরক্কো পৌঁছেছেন।