সেবা ডেস্ক: গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে সাঁওতালদের উপর হামলা ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গতকাল রবিবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
এসময় জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, যারা খোলা আকাশের নিচে আছে বলে দাবি করছে, তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব বাড়ি-ঘর আছে। তবে আমরা ৩১ জন ভূমিহীনের তালিকা তৈরি করেছি। তাদের চিনিকলের জমিতে পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, তারা রাজি হলে কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ১৪ দশমিক ২৬ একর জায়গায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসন করা যাবে। তিনি আরো বলেন, সাঁওতালদের উচ্ছেদে কোনো অভিযান চালানো হয়নি। সেদিন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সরকারি সম্পত্তি ও অস্ত্র রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এসময় পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
গতকাল বিকালে মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া পরিদর্শনে এসে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, নাসিরনগরের চেয়েও জঘন্যতম ঘটনা ঘটেছে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে। এ জঘন্যতম ঘটনার বিচার না হলে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগকে পস্তাতে হবে। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী লীগের একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।
বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান আ.স.ম. আব্দুর রব
এর আগে দুপুরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ.স.ম. আব্দুর রব গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শন করেন। তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা অক্ষম। ভোটের রাজনীতির কাছে সকল বন্ধন সম্প্রীতি সৌহার্দ্য ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের তাদের পৈত্রিক জমিতে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে আরো বলেন, ইক্ষু খামারের ওই জমি তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। এটা সরকার বা চিনিকল কর্তৃপক্ষের বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়। এছাড়া তিনি এখানে সংঘটিত ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেন।
সাঁওতালদের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক
এদিকে ঘটনার দু’সপ্তাহ পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে না হতেই সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের আখ ক্ষেতে গত শনিবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এই ঘটনায় তাদের মধ্যে আবারও নতুন করে মামলা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালরা খোলা আকাশের নীচে মাদারপুর মিশন গীর্জা সংলগ্ন খোলা মাঠ, গাছ-গাছালির আড়ালে এবং পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দায় বসবাস করছে।
খামারের ডিজিএম আলমগীর হোসেন জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে খামারের ফকিরগঞ্জ এলাকার ১১ আই ব্লকের জমির আগুন একই সঙ্গে পাঁচ থেকে ছয়টি জায়গায় সূত্রপাত হয়। কোনো দুর্ঘটনা হলে এক জায়গা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতো। তাই ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা এই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এতে খামারের ৩৩ বিঘা জমির দণ্ডায়মান আখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার আখ পুড়ে যায়।
ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, আখ ক্ষেতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি পক্ষ সাঁওতালদের দোষারোপ করছে যে, তাদের উচ্ছেদকৃত বসতি এলাকার আখ ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সাঁওতালরা মনে করছে তাদেরকে নতুন করে ফাঁসাতেই মিল কর্তৃপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আখ ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
তবে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, এঘটনায় সাঁওতালদের আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। আখে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বা পুলিশি অভিযানও চালানো হয়নি। চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আউয়াল জানান, মিল চালু থাকলে আগুনে পোড়া আখ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করেও চিনি উত্পাদন করা যেতো। কিন্তু মিল বন্ধ থাকায় সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।
আরো দুইজন গ্রেফতার
অপরদিকে সাঁওতালদের উপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং গুলি করে হত্যা ঘটনায় গতকাল আরো দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এনিয়ে গত চার দিনে মোট ১২ জনকে আটক করা হলো। আটককৃতরা হলেন, উপজেলার নাসিরাবাদ গ্রামের জনি মিয়া (২৮) ও রানা মিয়া (৩২)।
চিকিত্সার জন্য দুই সাঁওতালকে ঢাকায় প্রেরণ
সম্প্রতি জামিনে মুক্ত গুলিবিদ্ধ চরণ সরেন ও বিমল কিসকুকে উন্নত চিকিত্সার জন্য শনিবার রাতে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক