সেবা ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। পুরো ক্যাম্পাস মিলনমেলায় পরিণত হয়। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের স্ব স্ব ব্যাচের টি-শার্ট, টুপি, ব্যানারসহ নানান সাজে সজ্জিত হয়ে আসেন ক্যাম্পাসে। কেউ কেউ প্রিয় ক্যাম্পাস দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছেন ছেলে-মেয়েকে আবার কেউ নিয়ে এসেছেন নাতি-নাতনীদের। প্রিয় ক্যাম্পাসে এসে সহপাঠীদের দেখে জড়িয়ে ধরছেন। এ সময় অনেকের চোখে দেখা গেছে আনন্দের জল আবার ঢোলের তালে তালে ৬০-৭০ বয়সকেও উপেক্ষা করে কোমর দুলিয়ে নাচতে থাকেন। এই ছিল গতকালের চবি ক্যাম্পাস।
সকালে ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ সুন্দর রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সুবর্ণজয়ন্তীর বক্তা ছিলেন প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতির অপরূপ মহিমায় সজ্জিত একটি ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে আসার সময় দেখেছিলাম প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দলে দলে ফ্যাস্টুন, ব্যানার নিয়ে নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন। এ সব দেখে আমি আমার সেই ছাত্রজীবনে ফিরে যাচ্ছিলাম। ৫০ বছর পর হয়তো আমাদের অনেকেই থাকবে না। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয় তার জ্ঞান বিতরণ করেই যাবে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন পাঁচ বছর কাটানো চিরচেনা হলের সেই কক্ষটি দেখার জন্য। আলাওল হলের ৩০৯ নাম্বার কক্ষে আসেন ১১তম ব্যাচের ছাত্র সোহেল। তিনি বলেন, আমি এই রুমটাতে বসে একটু সময় কাটানোর জন্যই ঢাকা থেকে এসেছি। ২০তম ব্যাচের লাইলী আক্তার বলেন, বন্ধুদের আজ কাছে পেয়ে আমার বয়স যেন আবার ২৪-২৫ বছর হয়ে গেছে। ইচ্ছে করছে আগের মতো পুরো ক্যাম্পাস দৌড়ে বেড়াই।
সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বর্তমান শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল নানা আয়োজন। তারা প্রাক্তনদের বরণ করে নিতে সকাল থেকে ব্যান্ডপার্টি নিয়ে নিজ নিজ বিভাগে অবস্থান করেন। প্রাক্তনরা আসা মাত্রই তাদের বরণ করে নেন। এ যেন কোনো রাজার আগমন। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রূপা বলেন, আজকের দিনটার জন্য আমরা অনেক দিন অপেক্ষা করেছি। সাবেকদের সাথে পরিচয় হতে পারছি; যা সৌভাগ্যের বিষয়। তবে মনের মাঝে বারবার একটা জিনিস উঁকি মারছে— আমরাও এক সময় প্রাক্তন হব। আমরাও তাদের মতো ক্যাম্পাসে আসব।
দুপুর ১টার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন ওয়ারফেজ, লালন, আর্টসেল। এর আগে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মঞ্চে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চাকসু’র সাবেক ভিপি এসএম ফজলুল হক, মাজহারুল ইসলাম, মো. নাজিম উদ্দিন, গোলাম জিলানীসহ সম্মানিত অতিথিবৃন্দ।
