জাতীয় নদী সম্মেলনে ২৩টি প্রস্তাবনা

S M Ashraful Azom
সেবা ডেস্ক:  ‘স্বাস্থ্যকর পর্যটন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী জাতীয় নদী সম্মেলন শেষ হয়েছে। 
 
শনিবাব কক্সবাজারের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। 
 
সম্মেলনে বলা হয়- ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল নদ-নদী ও জলাশয়ের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করে নদ-নদী রক্ষায় সকলকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে টেকসই ব্যবস্থাপনায় নদীর সুপরিবেশ সৃষ্টি করে প্রকৃতিবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরি করে  নদী রক্ষা কার্যক্রম বেগবান করা হবে। 
 
বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল আয়োজিত জাতীয় এই সম্মেলনে ঘোষণা পাঠ করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম। দেশের নদ-নদী রক্ষা ও নদী পর্যটনের উন্নয়নে নদী কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীরা এই ঘোষণা তৈরি করেছেন।
 
নদী রক্ষায় ২৩টি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- নদী, জলাভূমি বিষয়ক আইন নীতি ও পরিকল্পনা পূর্ণমূল্যায়ণ ও হালনাগাদ করা; দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়, বাউড়, হৃদ ও মোহনার জলজ সম্পদের ইনভেক্টরি করে যথার্থ পরিসংখ্যানসহ প্রকাশ; নদীভিত্তিক পর্যটন ও জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ; নদী পর্যটন বিষয়ে শিক্ষা ও নদী সংরক্ষণ সচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; নদী সংরক্ষণ শিক্ষা কেন্দ্রস্থাপন এবং পাঠ্যক্রমে (প্রথম-অষ্টম শ্রেণী) নদী পর্যটন অন্তর্ভূক্ত করা; নদী ও জলাভূমি দূষণ ও দখল রোধে সংশ্লিষ্ট আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ; নদী ও তীরবর্তী এলাকায় ব্যবহারবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; জোনেশন করা, যেমন- শিল্প, আবাসন, বন্দর ও পর্যটন; জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে নদী সংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়নে যুগোপোযোগী করে তোলা; পরিবেশ নীতি, পানি নীতি এবং শিল্প জাতীয় যথাযথ সমন্বয় ও নদী দুষণ রোধে কার্যকরী ব্যবহারের পদক্ষেপ গ্রহণ; নদী পর্যটনকে পরিবেশবান্ধব করার জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক রিভার ইকোট্যুরিজম প্রকল্প গ্রহণ; চট্টগ্রামের শংখ ও হালদা নদীকে জাতীয় নদী হিসেবে ঘোষণা ও সংরক্ষণ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়; জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কর্মপরিধি বিস্তৃতকরণ ও বহুমাত্রিক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; নদী ও জলজ জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য সকল নদীর জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম তৈরি; নদী সংরক্ষণ, সুষম উন্নয়ন এবং নদীভ্রমণকে বেগবান করার জন্য সরকারি কর্মোদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান; নদী পর্যটন কার্যক্রম উন্নয়নে যুবক ও নারীদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান; আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী জীববৈচিত্র্য, প্রকৃতি বিষয়ক নদী ও জলজভূমির প্রাকৃতিক গুণাবলি রক্ষা করা এবং নদী পর্যটন উন্নয়ন করা; টেকসই নদী ব্যবস্থাপনায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও সমন্বয়; নদী রক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামের ভূমিকা কার্যকর করে তোলা; উদ্ধারকৃত নদীগুলো আন্তরিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং বেদখলের হাত থেকে রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ; নদী রক্ষার জন্য নদী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মাধ্যমে নদী বাঁচাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা; সরকারের এবং সরকারের আওতাধীন সকল সংস্থার নদী বিষয়ক কাজ কর্ম আরও প্রতিশ্র“তিশীল করা; নদী বিষয়ে কাজ করে এমন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার সাথে বেসরকারি সংস্থার সমন্বয় নিশ্চিতকরণ; নদীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নদী কমিশনের মাধ্যমে সকলের নিকট তুলে ধরা এবং ব্যবস্থা গ্রহণ ও নদী রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য সংস্থা বা ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
 
শনিবার কক্সবাজারের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সের শেষদিনে বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলামের সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আখতারুজ্জামান খান কবির, মালয়েশিয়ার টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবদুর রহমান, নদী পরিব্রাজক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সরওয়ার সাঈদ বক্তব্য রাখেন। কী-নোট উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রটেক্টেড এরিয়া প্ল্যানার ড. আনিসুজ্জামান খান।
 
এর আগে গত শুক্রবার বিকালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতাহারুল ইসলাম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top