সেবা ডেস্ক: নদী দখল করে ঢাকার চারপাশে গড়ে তোলা ১৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রবিবার সচিবালয়ে নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে গঠিত টাস্কফোর্সের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান এতে সভাপতিত্ব করেন। ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সচিব অশোক মাধব রায় ছাড়াও সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে চিহ্নিত ১৩টি অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে এগুলো উচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন দখলদার যত শক্তিশালী ব্যক্তিই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
সভায় কয়েকজন দখলদারের নাম আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৩টির মধ্যে বড় বড় স্থাপনা আছে, আমরা সেগুলো উচ্ছেদ করব। এমনও হয়েছে যে শত কোটি টাকার শিল্পকারখানা অপসারণ করে দেয়া হয়েছে।
বিভিন্ন নদীতে বসানো সীমানা পিলার নিয়ে আপত্তি নিরসনে নকশা প্রয়োজন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে নকশা সংগ্রহ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হবে। তারা ওই নকশার ভিত্তিতে সীমানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। সীমানা পিলারকে কেন্দ্র করে অনেক জায়গায় নতুন করে অবৈধভাবে দখলের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, নদীর দুই পাড়ে যেসব জমির মালিক বা বাসিন্দা আছে ওই এলাকায় পরিপত্র জারি করে নির্দেশনা দেয়া হবে পুনরায় জরিপকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় মাটি ভরাট বা কোনো ধরনের স্থাপনা করা যাবে না।
শাজাহান খান বলেন, নদীতে বসানো সীমনা পিলারের অনেকগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পিলারের উপরের লোহার পাইপ কেটে নেয়া হয়েছে। সীমানা পিলার আরো শক্তভাবে করে উপরের অংশটুকু কংক্রিটে ঢালাই করে দেয়া হবে। নদীর পাড়ে যেসব জায়গার খাজনা বিআইডব্লিউটিএ দেয়, অনেক ব্যক্তি ওই জমির দাবি নিয়ে তহসিল অফিসে গিয়ে খাজনা দিয়ে থাকে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের খাজনা যেন না নেওয়া হয় সেজন্য তহসিলদারদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
উচ্ছেদ হওয়া জমির পুনর্দখল ঠেকাতে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে কমিউনিটি কমিটি করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে যে কর্মকর্তারা থাকবেন, তারাও নিয়মিত এসব জায়গা পরিদর্শন করবেন।