![]() |
| নৌপথসহ যে কোনো ভ্রমণে নিরাপদ থাকার দোয়া ও আমল |
নদীপথে ও ভ্রমণে নিরাপদ থাকার দোয়া: সফর হোক প্রশান্তিময় ও বিপদমুক্ত
মানুষের জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ভ্রমণ। প্রয়োজন কিংবা বিনোদনের তাগিদে আমাদের প্রায়ই স্থলপথ, আকাশপথ বা নৌপথে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে হয়। তবে প্রতিটি সফরের সাথেই জড়িয়ে থাকে এক ধরণের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌপথে যাতায়াতের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ভয় থাকে। মুমিন হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো বাহনে আরোহণের সময় মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শিখিয়ে দেওয়া দোয়াগুলোর ওপর আমল করা।
ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া
সফরের শুরুতেই ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দোয়া পড়া অত্যন্ত জরুরি। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে— ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ’ (অর্থ: আল্লাহর নামে বের হচ্ছি এবং আল্লাহর ওপরই ভরসা করছি। আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো শক্তি নেই), তবে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায় এবং আল্লাহ তায়ালাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।
বাহনে চড়ার দোয়া
যেকোনো যানবাহনে আরোহণের পর স্থির হয়ে বসে পবিত্র কোরআনের সুরা যুখরুফের ১৩-১৪ নম্বর আয়াতের দোয়াটি পড়া সুন্নত। দোয়াটি হলো— ‘সুবহানাল্লাজি সাখখার লানা-হা যা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনকলিবুন’। এর মাধ্যমে আমরা স্বীকার করি যে, এই বাহনটি আমাদের অনুগত করে দেওয়া আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত এবং পরিশেষে আমাদের তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।
নৌকা বা জাহাজে ভ্রমণের বিশেষ দোয়া
নদীপথে বা সমুদ্রপথে নৌকা, লঞ্চ কিংবা জাহাজে ভ্রমণের সময় সুরা হুদের ৪১ নম্বর আয়াতের দোয়াটি পড়ার নির্দেশ রয়েছে। দোয়াটি হলো— ‘বিসমিল্লাহি মাজর-হা ওয়া মুরসা-হা, ইন্না রব্বি লা গফুরুর রহিম’ (অর্থ: আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ণ ও মেহেরবান)। ইতিহাস সাক্ষী, নূহ (আ.) যখন প্লাবনের সময় কিস্তিতে আরোহণ করেছিলেন, তখন এই দোয়ার মাধ্যমেই নিরাপত্তা পেয়েছিলেন।
সফরের ক্লান্তি ও অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া
দীর্ঘ সফরে রাসুল (সা.) আল্লাহর কাছে সফর সহজ হওয়া এবং পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ দোয়া করতেন। তিনি বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফরিনা হা-জাল বিররা ওয়াত তাকওয়া...’। এই দোয়ার মাধ্যমে সফরের কষ্ট-ক্লান্তি এবং ফিরে এসে পরিবার বা সম্পদের কোনো খারাপ অবস্থা দেখা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়। এছাড়া ভ্রমণের মাঝপথে কোথাও যাত্রা বিরতি করলে বা থামলে ‘আউজু বিকালিমা-তিল্লাহিত তা-ম্মা-তি মিন শাররি মা খলাক’ দোয়াটি পড়লে কোনো কিছুই ওই ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারে না।
ভ্রমণ কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া নয়, এটি আল্লাহর সৃষ্টিজগত দেখার ও শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে সুন্নত অনুযায়ী আমল করলে আমাদের সফর যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করুন। আমিন।





খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।