ঘোষক, সংগঠক ও যোদ্ধা: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শহীদ জিয়ার অবদান অপরিসীম
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধের পটভূমি ও রণাঙ্গনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং যুদ্ধের সংগঠক।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান নিথর জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই ঘোষণা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন এবং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের বর্ণনা উঠে এসেছে। রাত ২টা ১৫ মিনিটে দেওয়া সেই ঘোষণা বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল।
জিয়াউর রহমানের ভূমিকা শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন একজন পেশাদার সৈনিক এবং রণাঙ্গনের দুঃসাহসিক যোদ্ধা। অস্ত্র হাতে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। একজন ঘোষক, একজন সংগঠক এবং একজন যোদ্ধা—এই তিন পরিচয়ের মিলনেই তিনি ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ, কিন্তু সেই যুদ্ধেও কিছু ভূমিকা থাকে যা ইতিহাসকে দিক নির্দেশনা দেয় এবং জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল ঠিক তেমনই—অনিবার্য ও অনস্বীকার্য।
আজকের প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা হবে, কিন্তু তা যেন কখনোই মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে বা কোনো বীরের অবদানকে খাটো না করে। মুক্তিযুদ্ধ শুধু আমাদের অতীত নয়, এটি আমাদের পরিচয়। আর সেই পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ইতিহাসের সত্যকে সম্মান জানিয়ে এবং স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।