![]() |
| নিজের বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, তিন বিষয়ের পরীক্ষা আবার নেওয়ার আশ্বাস |
নিজের বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, তিন বিষয়ের পরীক্ষা আবার নেওয়ার আশ্বাস
উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে নিজের করা পূর্ববর্তী মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা আবার নেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে বলে জাতীয় সংসদে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে একটি বিল পাসের ওপর আলোচনা চলাকালে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
এর আগে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে শিক্ষামন্ত্রী প্রথম দফায় জবাব দেন। পরে বিল পাসের আলোচনার সময় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম আবারও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আলোচনা করছি, তখন আমাদের সংসদের সামনে আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে অবস্থান নিয়েছে।” তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়ন অথবা তাঁদের সঙ্গে অনতিবিলম্বে বসে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানান।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনেক পর্যালোচনা করে দেখেছি। গত পরশু যে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা হয়েছে, সেই পরীক্ষার সময় দেশজুড়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনেকেই ভিজে কেন্দ্রে গেছে এবং অনেকে পরীক্ষা সঠিকভাবে দিতে পারেনি বলে অভিযোগ এসেছে। আমরা যদিও সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছিলাম, তারপরও পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে যৌক্তিক দাবি এসেছে।”
চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “ইতিমধ্যে বন্যার কারণে আমরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন প্রতিটি জেলার পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছি। ফলে ওই বোর্ডগুলোর পরীক্ষা আমাদের পুনরায় নিতেই হবে। সার্বিক দিক ভেবেচিন্তে আমরা দেখেছি, চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষাগুলো যখন নতুন সময়সূচিতে নিতে যাব—ঠিক সেই সময়েই এই পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষাটি সারা দেশে পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব, ইনশা আল্লাহ।”
পরীক্ষার্থীদের চলমান ক্ষোভ ও নিজের মন্তব্য প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেন, “তা ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। এ ব্যাপারে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে আঘাত করে কিছু বলি নাই। তারপরও আমার কথায় যদি কোনো শিক্ষার্থী বা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে আমি সিম্পলি (সহজভাবে) দুঃখ প্রকাশ করছি।”
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণার পর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভ ও সংসদ ভবনের সামনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসান ঘটবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থগিত ও বিতর্কিত পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি দ্রুতই আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।