![]() |
| জামানত ছাড়াই ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান পাবেন তরুণ উদ্যোক্তারা: প্রধানমন্ত্রী |
জামানত ছাড়াই ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান পাবেন তরুণ উদ্যোক্তারা: প্রধানমন্ত্রী
দেশের তরুণ ও মেধাবী স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন ও সম্ভাবনাময় কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগের (স্টার্টআপ) জন্য প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মতো জমি, সম্পদ বা অন্য কোনো জামানত ছাড়াই ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তরুণ, স্টার্টআপ এবং সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিকাশে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান সরকার মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে। স্টার্টআপগুলোকে সরাসরি টেকনিক্যাল ও ফিন্যান্সিয়াল সহায়তা দেওয়ার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছে। এই তহবিল থেকে আমরা নতুন উদ্যোক্তাদের আইডিয়া ও প্রজেক্টের ওপর ভিত্তি করে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করব।”
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ শুরু করতে ইচ্ছুক তরুণদের কোনো জমি বা প্রথাগত জামানতের চক্করে পড়তে হবে না। এই প্রজেক্ট মূল্যায়নের জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পেশাদার কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে কোনো মন্ত্রী বা রাজনৈতিক উপদেষ্টা নেই। এই বিশেষজ্ঞ কমিটি আপনার ব্যবসায়িক প্রজেক্টটি মূল্যায়ন করে অনুমোদন দিলে, কোনো জামানত ছাড়াই সরাসরি অর্থায়ন পেয়ে যাবেন।”
আরেক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের আশ্বস্ত করে বলেন, “সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে আসা তরুণদের প্রজেক্ট যদি শুরুতে কোনো কারণে ব্যর্থও হয়, তবে তাঁদের ঝরে পড়তে দেওয়া হবে না; বরং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অর্থায়নের আরেকটি সুযোগ দেওয়া হবে।”
ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর উদ্যোক্তাদের বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শুধু রাজধানী ঢাকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বরং দেশজুড়ে এর প্রসার ঘটাতে চায়। আমরা চাই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও আপনাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তারা উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে এগিয়ে আসুক। সরকার নিজে আপনাদের কাছে পৌঁছাবে।” একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগলেও সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় এই উন্মুক্ত আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডিইউ), বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জেইউ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), বিইউপি, এমআইএসটি, নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও তরুণ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।