![]() |
| গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে কথা বলেন। ছবি: বাসস |
সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার তাদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন। তিনি দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কৌশলগত কার্যক্রম গভীর মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন কারিগরি দিক এবং সেনাসদস্যদের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও তা প্রতিরোধে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেম’-এর কার্যকারিতা প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে এই আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এর কৌশলগত ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।
একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন। সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।” নিজের পারিবারিক স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে, শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়।”
মহড়া পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী প্রটোকল ভেঙে সাধারণ সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটির ওপর বসে কিছু সময় কাটান এবং তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। এ সময় তিনি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাধারণ সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রীকে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।