জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু ঃ
বকশীগঞ্জ উপজেলা এখন জেলা হওয়ার সময়ের ব্যাপার মাত্র। সময়ের ব্যবধানে , ভৌগলিক দিক থেকে বিবেচনা করে হলেও একদিন সম্ভাবনাময় বকশীগঞ্জ উপজেলা জেলা হবে। আমরা বকশীগঞ্জ জেলা চাই এ কথা শুধু এখন আর কিছু সংখ্যক মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। এ দাবি এখন প্রায় ১৫ লাখ মানুষের।
আমরা কেন বকশীগঞ্জ জেলা চাই। এর পেছনে নানা যুক্তি রয়েছে। আমরা জমালপুর জেলার বাসিন্দা । কিন্তু জেলা সদরে যেতে হলে নানা বিড়ম্বনা সইতে হয়। একটি নদী পার হতে হয়। জেলা সদর থেকে উপজেলার যে দুরুত্ব রয়েছে তা অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা এবং পাশবর্তী রাজিবপুর , রৌমারীর লোকজন শেরপুর জেলার উপর দিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে যেতে হয়। জামালপুর বকশীগঞ্জ সড়কের নন্দির বাজার থেকে বকশীগঞ্জের টানা ব্রিজ পযন্ত সড়কের বেহাল অবস্থার সৃিষ্টি হলেও অজ্ঞাত কারণে এ সড়কের কোন উন্নয়ন হয় না। এতে করে যত দুর্ভোগ বকশীগঞ্জ সহ উত্তরাঞ্চল এলাকার মানুষের পোহাতে হয়।
বকশীগঞ্জ জেলা করতে যে সব এলাকা নেয়া যাবেঃ
বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে জেলা করতে হলে যেসব এলাকা নেওয়া যায় তারমধ্যে বকশীগঞ্জ সদর, রাজিবপুর উপজেলা, রৌমারী উপজেলা, সানন্দবাড়ি কিংবা তারাটিয়া এলাকা একটি থানা করে মোট ৪ টি উপজেলা/থানা এলাকা নিয়ে একটি জেলা হতে পারে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার উত্তরের চারটি ইউনিয়ন নিয়ে যে থানাটি হবে সেটির লোকজন বকশীগঞ্জ জেলার সাথে থাকতে একমত রয়েছে।
রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার জনগণ জন্ম লগ্ন থেকেই অভাগা। তারা নিপীরিত হয়ে বাধ্য হয়ে কুড়িগ্রামের সাথে আছে। তারা যে সীমাহীন কষ্ট, দুর্ভোগ , যন্ত্রণা সহ্য করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্রহ্মপুত্র তাদের ললাটে এক তামাশায় পরিণত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কিছু কাজ ছাড়া বাকি সব কাজই জামালপুর জেলা থেকে নিয়ন্ত্রন হয়।রৌমারীর বর্ডারের বিজিবির ক্যাম্প গুলো জামালপুর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। বিদ্যুৎ জামালপুর থেকে নিয়ন্তিত হয়।
রাজিবপুর , রৌমারী বাসী একটি মামলায় পড়লে তাদের সাড়ে ৩ ঘন্টার প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র নদ পাড় হয়ে মামলা মোকাবেলা করতে হয়। ইচ্ছা করলেই কুড়িগ্রামে যাওয়া যায় না।
তারা নানা কারণে অবহেলিত হয়ে আছে। এখন তারা শুধু পরিবর্তন চায়। কুড়িগ্রাম নয় বকশীগঞ্জ জেলায় থাকতে চায়। এ জন্য তারা আন্দোলনে যেতেও রাজি।
বকশীগঞ্জ কামালপুর স্থল বন্দর বকশীগঞ্জ জেলা করতে একটি পজেটিভ পয়েন্ট। এ বন্দর থেকে প্রতিবছর সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে। ইমিগ্রেশন চালু হলে পাল্টে যাবে পুরো কামালপুরসহ বকশীগঞ্জের চিত্র। ইতোমধ্যে বকশীগঞ্জ একটি শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল চিশতি বকশীগঞ্জ কে সীমান্ত শিল্পাঞ্চল এলাকা ঘোষনা করতে বিশেষ ভাবে কাজ করছেন। তার সাহসী নেতৃত্বে এখানে গড়ে উঠছে শিল্প কারখানা। স্থানীয় বেকার জনগোষ্ঠি এখন আর অভাবে নয় কাজ করে খেটে খেয়ে চলতে পারছে।
কিছুদিন পর ৩ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি অত্যাধুনিক মিনি স্টেডিয়াম।
বকশীগঞ্জের কৃতি সন্তান পুলিশের অতিরিক্ত অাইজিপি মোখলেসুর রহমান (পান্না) সাহেব বকশীগঞ্জে হাইওয়ে থানার জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।
কামােলপুরে রয়েছে ঐতিহাসিক ১১ ন সেক্টর। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতি কথা রয়েছে সেখানে। প্রতিবছর কয়েকশত মুক্তিযুদেধর চেতনায় বিশ্বাসীরা এখানে আসেন ওই ঐতিহাসিক স্থানটি দেখার জন্য।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল চিশতীর আপ্রাণ চেষ্টায় ১১ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু তাহের (পরে কর্নেল) এর স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
কামালপুর থেকে ৪ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত রয়েছে লাউচাপড়া বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন এখানে ভ্রমণে । তারাও বকশীগঞ্জকে জেলার করার উপযোগী মনে করেন।
সব মিলিয়ে বকশীগঞ্জ জেলা এখন হাজার হাজার মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হচ্ছে।
আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব আমাদের এ দাবি আপনারা পযবেক্ষণ করুন। যেহেতু ময়মনসিংহ বিভাগ করা হয়েছে। তেমনি বকশীগঞ্জকে জেলা করা হোক।
পাহাড় ঘেষা বকশীগঞ্জকে জেলা করে এ এলাকার মানুষের আশা পুরণ করা হোক।
আমরা আশা করি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই বকশীগঞ্জ জেলার ঘোষণা আসবে। এ জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এর হস্তক্ষেপ অবশ্যই জুরুরী।
তার মাধ্যমে সংসদে বকশীগঞ্জ জেলা চাই বিষয়টি আলোচনা হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই একটি পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই আশাবাদী আমরা।