সিস্টেমলস শূন্যের কোটায় আনতে মহাপরিকল্পনা

S M Ashraful Azom
সিস্টেমলস শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি ( ডেসকো) গ্রাহকদের মাঝে প্রি-পেইড সরবরাহ করছে।
 
এ ছাড়া মিটারের মান যেন সঠিকভাবে নির্ধারণ করা এবং গ্রাহকদের যেন মিটার নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকে সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে বলে জানালেন ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) নজরুল হাসান। পাশাপাশি মিটারিং কার্যক্রমসহ সব ধরনের সেবায় ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
 
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বর্তমানে গড়ে সিস্টেমলস ১৪ শতাংশ। তবে ডিপিডিসির বর্তমানে এ সিস্টেমলস ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে ডেসকোর প্রায় ৮ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিস্টেমলসের নামে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে।
 
নজরুল হাসান জানান, ডিপিডিসি ক্রমান্বয়ে সব গ্রাহকের সংযোগের বিপরীতে প্রি- পেইড মিটার দেবে। ২০১৮ সালের মধ্যে ডিপিডিসির সব গ্রাহক প্রি- পেইড মিটার পাবেন। প্রি- পেইড মিটারের ক্ষেত্রে যেহেতু আগেই গ্রাহককে বিল পরিশোধ করতে হবে, সে ক্ষেত্রে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবেন। এ ছাড়া বিদ্যুতের অপচয়ও রোধ হবে। সব গ্রাহককে প্রি- পেইড মিটার দিলে টেকনিক্যাল সিস্টেমলস কিছুটা থাকলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে সিস্টেমলস শূন্যের কোটায় নেমে আসবে বলেও তিনি দাবী করেন। তিনি আরো জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বিতভাবে পরিবর্তন আনতে হবে। উত্পাদন ব্যবস্থায় যেমন বৈচিত্র্য আনতে হবে তেমনই বিতরণ ব্যবস্থাতেও নানা মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। আর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরো সাশ্রয়ী হতে সচেতন হওয়ারও আহবান জানান তিনি ।
 
 
ডিপিডিসির সিস্টেম লস ২০০৭-০৮ অর্থবছরের ২০ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশে কমে এসেছে। সাম্প্রতিককালে ডিজিটাল মিটার, প্রি- পেইড মিটার ও এক্সপ্রেস ফিডার প্রবর্তনের ফলে দুর্নীতি কমেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বর্তমানে উত্পাদন সাড়ে ৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। আর উত্পাদন সক্ষমতা রয়েছে ১৩ হাজার মেগাওয়াট।
 
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, তিন বছরের মধ্যে উত্পাদনে আসার তালিকায় থাকা বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে পাঁচটি। একই সময়ে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে আমদানি করা কয়লানির্ভর তিনটি, ফার্নেস তেলভিত্তিক দুটি ও দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক একটি বিদ্যুতকেন্দ্রের। গ্যাসভিত্তিক আশুগঞ্জের দুটি (উত্তর ও দক্ষিণ) প্রকল্প, ঘোড়াশাল সিসিপিপি-এসসি, ভেড়ামারা সিসিপিপি ও বিবিয়ানা-২ থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা ১ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াট।
 
এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের চার মাস পর গত জুনে উত্পাদন শুরু করেছে বিবিয়ানা-২।ফার্নেস তেলনির্ভর কেরানীগঞ্জের বসিলা ও খুলনা ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ২০৮ মেগাওয়াট ও জামালপুর আইপিপি থেকে ৯৫ মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, খুলনা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে ২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। বিবিয়ানা-২ ছাড়া বাকি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অগ্রগতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top