হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয় পারভীনকে, জোড়া খুন পূর্বকরিকল্পিত

S M Ashraful Azom
খুলনায় বাবা-মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের আগে দুর্বৃত্তরা ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে (২৬) ধর্ষণ করেছে। পরে তাকে ও তার বৃদ্ধ বাবা ইলিয়াস হোসেন চৌধুরীকে (৭০) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তাদের লাশ সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতর ফেলে দিয়েছে।
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের  ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন প্রতিবেশীকে আটক করেছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি ওই বাড়ি পরিদর্শনে এসে তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় দেখা যায়, এটি টিনসেড আধাপাকা বাড়ি। ঘরের বাইরে (বাউন্ডারির ভেতরে) থাকা বাথরুমের দু’টি ভাঙ্গা সেপটিক ট্যাংক। হত্যাকাণ্ডের পর বাবা-মেয়েকে এর মধ্যেই ঢুকিয়ে রাখা হয়। তবে ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল তছনছ করা ছিল।
স্থানীয়রা জানান, ইলিয়াস চৌধুরীর বাকি দু’মেয়ের একজন খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা এলাকায় এবং অন্যজন ঢাকায় বসবাস করেন। আর একমাত্র ছেলে রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব নগরীর সিমেট্রি রোডে ব্যবসা করছেন।
রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব জানান, তাদের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। তারপরও কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটলো সে বিষয়ে তিনি কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।  এদিকে, স্ত্রী ও শ্বশুরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে ঢাকা থেকে খুলনায় ছুটে আসেন স্বামী আশিকুর রহমান। তিনি আহাজারি করতে করতে বলেন, স্বপ্ন ছিলো আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে অনেক আনন্দ করবো। কিন্তু সে আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো।
কেএমপির সহকারী কমিশনার জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, আলামত এবং লাশ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে বাবা-মেয়ে দু’জনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা এই জোড়া হত্যাকাণ্ড করেছে। হত্যাকারীরা তাদের পূর্ব পরিচিত ছিল বলে আমাদের মনে হচ্ছে।
লবণচরা থানার ওসি মোশারফ হোসেন জানান, লাশ দুটির গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন রয়েছে। ঘাতকরা নিহতদের পূর্ব পরিচিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘাতকদের চিনে ফেলায় তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, পারভীন সুলতানার দেহ বিবস্ত্র অবস্থায় ছিল। নিহতদের বাসার বাইরে থেকে একটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরের ভেতর সিগারেট খাওয়ার চিহ্ন রয়েছে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top