যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান জেরাল্ড কননোলির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন। ৮ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসম্যান জেরাল্ড কননোলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন।
বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা, সন্ত্রাসবাদ এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢাকা-ওয়াশিংটনের সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রদূত কংগ্রেসম্যানকে বলেন, চরমপন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে চলমান লড়াই জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বাংলাদেশে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেয়া এবং বাংলাদেশী পণ্যের বিশেষ করে আরএমজি পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়া উচিত।
রাষ্ট্রদূত বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং উভয় দেশের একই লক্ষ্য ও মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ-ইউএস দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
জিয়াউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা অথবা অন্য কোন ধরনের বাণিজ্য সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাচ্ছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র তাদের ট্রান্স-প্যাসেফিক শরিক দেশগুলোকে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা দিচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।
রাষ্ট্রদূত কংগ্রেসম্যান কননোলিকে অবহিত করেন যে, বিশ্বের প্রায় সকল উন্নত দেশে শূন্য শুল্ক সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে না। এতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আরএমজি রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ফলে নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য নিরসন সর্বোপরি সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াইয়ে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে।
এ ছাড়া বৈঠকে অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই এবং ঢাকা-ওয়াশিংটন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কংগ্রেসম্যান কননোলি বাংলাদেশকে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার জন্যে বাংলাদেশের পাশে থেকে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানোর আগ্রহ ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশ বিষয় তাকে অবহিত করার জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান। বাসস।

