সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুক এবারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে শিক্ষা খাতে। বৃহস্পতিবার ফেসবুকের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার ক্রিস কক্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা অনুযায়ী ফেসবুক সামিট পাবলিক স্কুলের সাথে যৌথ উদ্যোগে এমন সফটওয়্যার তৈরি করবে যা ব্যবহার করে শিশুরা নিজেরাই শিখতে পারবে। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জুকারবার্গের ঐকান্তিক ইচ্ছাতেই এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে ফেসবুক। আর পেছনে অন্যতম ভূমিকাও পালন করেছে ক্রিস কক্স। এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে এক ব্লগপোস্টে কক্স লিখেছেন, ‘আগামী দিনের শিক্ষার খাতের জন্য আমাদের নিজেদের দক্ষতা প্রয়োগ করে ভালো কিছু করার সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করেছি। এবং আমরা এর জন্য সেটাই করতে চেয়েছি যা আমরা ভালো পারি। আর সেই কাজটি হলো সফটওয়্যার তৈরি।’ বছরখানেক আগে অনেকটা নিভৃতেই শিক্ষার উপযোগী সফটওয়্যার তৈরির প্রকল্পটি নিয়ে কাজ শুরু করে ফেসবুক। এর জন্য ফেসবুকের আটজন কর্মীকে পূর্ণকালীন সময়ের জন্যও নিযুক্ত করা হয়। অনলাইনে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান সামিট পাবলিক স্কুলের প্রধান নির্বাহী ডায়ান ট্যাভেনারের সাথে গত বছর মার্ক জুকারবার্গের কথা হলে তারা যৌথভাবে শিক্ষা বিষয়ক সফটওয়্যার তৈরিতে কাজ করার জন্য সম্মত হন। এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ট্যানেভার বলেন, ‘শিক্ষণ প্রক্রিয়া যাতে শিশুদের হাতেই থাকে এবং তারা নিজেরাই একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে—এমন ভাবনা থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি।’ তিনি জানান, তারা এমন ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করছেন যা ব্যবহার করে শিশুরা নিজেরা নিজেরাই বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারবে। শিশুরা শিক্ষকদের সহায়তা নিয়ে এই সফটওয়্যারে বিভিন্ন ধরনের লেসন এবং প্রজেক্ট তৈরি করতে পারবে। শিক্ষকরাও এর মাধ্যমে শিশুদের জন্য কুইজ, পরীক্ষা প্রভৃতি গ্রহণ করার সুযোগ নিতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে শিশুদের অগ্রগতির মনিটর করতে পারবেন। ফেসবুক এই উদ্যোগের সাথে থাকলেও এই প্ল্যাটফর্মটি ফেসবুকের বাইরের স্বতন্ত্র একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সামিট পাবলিক স্কুলের নয়টি শাখায় এবং অন্য আরও ২০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যবহূত হচ্ছে এই সফটওয়্যার এবং প্রাথমিকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আপাতত এটি ক্ষুদ্র একটি উদ্যোগ হলেও একে বিশ্বব্যাপী সকল শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে ফেসবুক এবং সামিট পাবলিক স্কুল। প্রযুক্তি ও শিক্ষা বিশ্লেষকরা অবশ্য ফেসবুকের এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে ফেসবুকের বিরুদ্ধে আগেও নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে এবং এসব অভিযোগ এখনও অনেকেই করে থাকেন। তাছাড়া অনলাইন শিক্ষায় শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটিও থাকতে পারে উল্লেখ করে মার্কিন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ক্লাস সাইজ ম্যাটারসের লিওনি হেইমসন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যে কারা প্রবেশ করবে তার নিয়ন্ত্রণ কে করবে এবং কে এর সুরক্ষা প্রদান করবে—তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণায় দেখা যায় যে অনলাইন শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় শিশুদের অর্জনের ক্ষেত্রে ফাঁক থেকে যায়। বেশিরভাগ অভিভাবকরাই তাদের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার মনিটরের সামনে বেশিক্ষণ থাকা পছন্দ করেন না। বরং তারা চান শিশুদের সহপাঠী ও শিক্ষকদের সাথে আরও বেশি সময় কাটুক।’ তবে ফেসবুক তাদের এই শিক্ষা সফটওয়্যারের সাফল্য নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।

