ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট জ্যা-ক্লদ জাঙ্কার আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এক লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে ইউরোপীয় নেতাদের একমত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপের ২২ টি দেশে এদের ভাগাভাগি করে নেয়ার বিস্তারিত একটি প্রস্তাব দেন তিনি। খবর- আল জাজিরার।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ইউরোপমুখী শরণার্থীদের অব্যাহত স্রোতের মধ্যে ইউরোপীয় কমিশনের এই পরিকল্পনার কথা জানালেন জাঙ্কার। শরণার্থীদের চাপ সামাল দিতে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করার কথাও বলেন তিনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বৃহত্তম শরণার্থী সংকট মোকাবেলা করার জন্য নতুন একগুচ্ছ প্রস্তাব দেন ইসি প্রেসিডেন্ট। ফ্রান্সের স্ট্রসবুর্গে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে বুধবার সদস্য দেশগুলোর প্রতি আবেগঘন আবেদন জানিয়ে প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করেন জাঙ্কার। জনসংখ্যা, বেকারত্ব, জিডিপি, আয়তন এসব বিবেচনা করে শরণার্থীদের ভাগাভাগি করে নিতে একটি তালিকা উপস্থাপন করেন তিনি।
প্রস্তাব অনুযায়ী জার্মানি ও ফ্রান্স আগত শরণার্থীদের সিংহভাগের দায়িত্ব নেবে। তবে ইউরোপের কিছু দেশ এই প্রস্তাবের বিপক্ষে সরব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসি প্রেসিডেন্ট এসময় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গ্রিস, ইটালি ও হাঙ্গেরি একাকী শরণার্থীদের চাপ সামাল দিতে পারবে না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি শরণার্থী রয়েছে এই তিনটি দেশে। এবছর ইউরোপে পাঁচ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে জানিয়ে জাঙ্কার বলেন, 'সাহসী ও ঐকান্তিক পদক্ষেপ নেয়ার এটাই উপযুক্ত সময়'।
এসময় ২২ টি সদস্য রাষ্ট্রকে আরো এক লাখ ২০ হাজার শরণার্থী নেয়ার প্রস্তাব দেন জাঙ্কার। গত জুনে দেশগুলো ৪০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছিল। তিনি সদস্য দেশগুলোর কাছে প্রশ্ন রাখেন, 'আমরা সবাই ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি, তাহলে যারা ইসলামিক স্টেট ছেড়ে পালাচ্ছে তাদের কেন আশ্রয় দেব না?'

