জাসদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে’ সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার এ বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের ভেতরের একটি চক্রই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। ওই চক্রই খুনি মোস্তাকের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে।’
সেই কারণে আরো গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার কারণ ও উত্স বিশ্লেষণ করার জন্য তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানান।
আ স ম রব বলেন, ‘আজ যারা বলছেন জাসদ বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে, তাদের দলই এই হত্যার জন্য দায়ী। কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার জন্যও তারাই দায়ী। অন্য দিকে, তখন একমাত্র জাসদ খুনি মোস্তাকের ফাঁসি দাবি করেছিল।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রশ্ন রেখে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঐকমত্যের সরকারের মন্ত্রী রব বলেন, ‘কারা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠন না করে বঙ্গবন্ধুকে দলীয় সরকার গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল? কারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাজউদ্দিন আহমেদের দূরত্ব তৈরি করেছে? কারা বঙ্গবন্ধুকে রক্ষীবাহিনী গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল? রাজনৈতিক সংকটকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার উদ্যোগ নিতে কারা বঙ্গবন্ধুকে উত্সাহিত করেছিল? কারা বঙ্গবন্ধুকে বাকশাল করতে বাধ্য করেছিল? এ সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য কারা দায়ী, তা পরিস্কার হয়ে যাবে।’
জেএসডি সভাপতি বলেন, ‘কোনো নেতাকে হত্যার মাধ্যমে জাসদ ক্ষমতার পটপরিবর্তন চায় না। গণতান্ত্রিক ধারার মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন চায়।’
তিনি বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলার ভয়ঙ্কর অবনতি ঘটেছে। আইনের শাসনের সুরক্ষা ভেঙ্গে পড়েছে। জনগণের গণতন্ত্র চর্চা বন্ধ করে সরকার জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র বানানোর রসদ জোগাচ্ছে।’
দুই জোটের বিকল্প হিসেবে ‘তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ে তোলার জন্য তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, এম এ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, আব্দুল খালেক, জাহাঙ্গীর আলম ও সাংবাদিক ফিরোজ আলম মিলন প্রমুখ।

