মোবাইল সিমকার্ডের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার। এ অপব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের ১৩ কোটি মোবাইল গ্রাহককে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে সিমকার্ড বিক্রেতাদেরও। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করতে বলা হয়েছে। আর যাতে কোন অজুহাতেই সিমকার্ড ফ্রি না দেওয়া হয় সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভুয়া ঠিকানায় নিবন্ধিত ও নিবন্ধনহীন মোবাইল সিমকার্ড ব্যবহার করেই নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপব্যবহার বন্ধে কীভাবে ওই সিমগুলো চিহ্নিত ও বন্ধ করা যায়- তা নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ছাড়াও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে বর্তমানে বাজারে থাকা ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৬৯ হাজার মোবাইল সিম নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে মোবাইল ফোনের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদেরও নিবন্ধিত করার জন্য বলা হয়। এদের নাম-ঠিকানা মোবাইল অপারেটরদের সংরক্ষণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দুই-একদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও মোবাইল অপারেটরদের কাছে পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস সাংবাদিকদের জানান, দেশের ১৩ কোটি সিমকার্ড নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। কারণ সব সিম ভুয়া বা অবৈধ নয়। মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অনিবন্ধিত সিমগুলো নিবন্ধন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ সোমবার বিটিআরসিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, "সিম রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটররা রেজিস্টেশন ছাড়াই বা প্রকৃত ব্যবহারকারী নয়- এমন গ্রাহকের নামে সিম বিক্রি করছে। গ্রাহকদের ওইসব সিম পুনরায় নিবন্ধন করার জন্য বলা হবে। নাহলে যাচাই-বাছাই করার সময় সিমগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটি আগের নির্দেশনার ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের প্রতিটি সিমকার্ড নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এজন্য একটি নির্ধারিত ফরমে গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে ওই তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নির্বাচনের আলোচনা ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এনআইডি সার্ভার ব্যবহারে সম্মতি দিয়েছে। তাদের সঙ্গে বিটিআরসির চুক্তি হবে দ্রুত। এনআইডি সার্ভারে থাকা তথ্যের সঙ্গে নিবন্ধন ফরমে দেওয়া তথ্য গড়মিল হলে সেই সিমের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। মন্ত্রণালয় এই কাজ সার্বক্ষণিক তদারকি করবে। এ ছাড়া সিমকার্ড নতুন করে নিবন্ধনের পাশাপাশি ভূয়া ও নিবন্ধনহীন সিমের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, গ্রাহক ও ডিলারদের নতুন করে নিবন্ধনের জন্য উৎসাহিত করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। মোবাইল ফোন কম্পানিগুলো থেকে এসএমএসের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুফল এবং নিবন্ধন না করার ঝূঁকি সম্পর্কে গ্রাহকদের অবহিত করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হবে। মোবাইল অপারেটরদের বিজ্ঞাপনেও সিমকার্ড নিবন্ধন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচারের জন্য বলা হবে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমেও এ ব্যাপারে বিশেষভাবে প্রচার চালানো উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, অপব্যবহার বন্ধে ভুয়া ও নিবন্ধনহীন সিমগুলো চিহ্নিত করা জরুরি উল্লেখ করে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম কালের কণ্ঠকে বলেন, "মোবাইল সিমকার্ড নিয়ে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এখন জরুরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সিমগুলো চিহ্নিত করা। মন্ত্রণালয় সেই কাজটি করছে। চলতি বছরে ১৬ হাজার ৩৮০টি মোবাইল সিম চিহ্নিত ও বন্ধ করা হয়েছে।" তিনি আরো বলেন, "জনগণের কাছে অবৈধ সিমকার্ড যত বেশি থাকবে অপরাধও তত বেশি হবে। তাই অবৈধ সিম উদ্ধারের পরিকল্পনা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিটিআরসি ও বেসরকারি কম্পানিগুলোর এনআইডি'র তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। দ্রুতই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভুয়া ঠিকানায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাক মেইলিংয়ের পাশাপাশি অবৈধ ভিওআইপি'র অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ কারণে ২০০৮ সালে সব মোবাইল গ্রাহকের সিমকার্ড পুনঃনিবন্ধন করা হয়। কিন্তু সেই নিবন্ধন নিয়েও পরে নানা অনিয়ম ও ভুলের অভিযোগ ওঠে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রবেশাধিকার না থাকার কারণে গ্রাহকের সঠিক তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আবারো অনুমোদিত বিক্রেতাদের পাশাপাশি রাস্তা-ঘাটে ফেরিওয়ালার কাছেও অনিবন্ধিত সিমকার্ড বিক্রি শুরু হয়। ফলে সিমকার্ড ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। সংসদ সদস্য তারানা হালিম ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেই অবৈধ সিমকার্ডের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। - কা ক
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভুয়া ঠিকানায় নিবন্ধিত ও নিবন্ধনহীন মোবাইল সিমকার্ড ব্যবহার করেই নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপব্যবহার বন্ধে কীভাবে ওই সিমগুলো চিহ্নিত ও বন্ধ করা যায়- তা নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ছাড়াও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে বর্তমানে বাজারে থাকা ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৬৯ হাজার মোবাইল সিম নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে মোবাইল ফোনের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদেরও নিবন্ধিত করার জন্য বলা হয়। এদের নাম-ঠিকানা মোবাইল অপারেটরদের সংরক্ষণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দুই-একদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও মোবাইল অপারেটরদের কাছে পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস সাংবাদিকদের জানান, দেশের ১৩ কোটি সিমকার্ড নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। কারণ সব সিম ভুয়া বা অবৈধ নয়। মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অনিবন্ধিত সিমগুলো নিবন্ধন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ সোমবার বিটিআরসিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, "সিম রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটররা রেজিস্টেশন ছাড়াই বা প্রকৃত ব্যবহারকারী নয়- এমন গ্রাহকের নামে সিম বিক্রি করছে। গ্রাহকদের ওইসব সিম পুনরায় নিবন্ধন করার জন্য বলা হবে। নাহলে যাচাই-বাছাই করার সময় সিমগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটি আগের নির্দেশনার ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের প্রতিটি সিমকার্ড নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এজন্য একটি নির্ধারিত ফরমে গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে ওই তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নির্বাচনের আলোচনা ও চিঠি চালাচালি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এনআইডি সার্ভার ব্যবহারে সম্মতি দিয়েছে। তাদের সঙ্গে বিটিআরসির চুক্তি হবে দ্রুত। এনআইডি সার্ভারে থাকা তথ্যের সঙ্গে নিবন্ধন ফরমে দেওয়া তথ্য গড়মিল হলে সেই সিমের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। মন্ত্রণালয় এই কাজ সার্বক্ষণিক তদারকি করবে। এ ছাড়া সিমকার্ড নতুন করে নিবন্ধনের পাশাপাশি ভূয়া ও নিবন্ধনহীন সিমের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, গ্রাহক ও ডিলারদের নতুন করে নিবন্ধনের জন্য উৎসাহিত করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। মোবাইল ফোন কম্পানিগুলো থেকে এসএমএসের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুফল এবং নিবন্ধন না করার ঝূঁকি সম্পর্কে গ্রাহকদের অবহিত করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হবে। মোবাইল অপারেটরদের বিজ্ঞাপনেও সিমকার্ড নিবন্ধন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রচারের জন্য বলা হবে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যমেও এ ব্যাপারে বিশেষভাবে প্রচার চালানো উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, অপব্যবহার বন্ধে ভুয়া ও নিবন্ধনহীন সিমগুলো চিহ্নিত করা জরুরি উল্লেখ করে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম কালের কণ্ঠকে বলেন, "মোবাইল সিমকার্ড নিয়ে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এখন জরুরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সিমগুলো চিহ্নিত করা। মন্ত্রণালয় সেই কাজটি করছে। চলতি বছরে ১৬ হাজার ৩৮০টি মোবাইল সিম চিহ্নিত ও বন্ধ করা হয়েছে।" তিনি আরো বলেন, "জনগণের কাছে অবৈধ সিমকার্ড যত বেশি থাকবে অপরাধও তত বেশি হবে। তাই অবৈধ সিম উদ্ধারের পরিকল্পনা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিটিআরসি ও বেসরকারি কম্পানিগুলোর এনআইডি'র তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। দ্রুতই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভুয়া ঠিকানায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাক মেইলিংয়ের পাশাপাশি অবৈধ ভিওআইপি'র অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ কারণে ২০০৮ সালে সব মোবাইল গ্রাহকের সিমকার্ড পুনঃনিবন্ধন করা হয়। কিন্তু সেই নিবন্ধন নিয়েও পরে নানা অনিয়ম ও ভুলের অভিযোগ ওঠে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রবেশাধিকার না থাকার কারণে গ্রাহকের সঠিক তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আবারো অনুমোদিত বিক্রেতাদের পাশাপাশি রাস্তা-ঘাটে ফেরিওয়ালার কাছেও অনিবন্ধিত সিমকার্ড বিক্রি শুরু হয়। ফলে সিমকার্ড ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। সংসদ সদস্য তারানা হালিম ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেই অবৈধ সিমকার্ডের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। - কা ক
