রাফায়েল নাদাল পুরো পাঁচ সেট খেলেও এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে আগে ইউএস ওপেন থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হলেন। দুই সেটে এগিয়ে গিয়েও কোন গ্র্যান্ডস্ল্যাম থেকে বিশ্বের সাবেক এক নম্বর খেলোয়াড়টির বিদায়ও এই প্রথম। নাদালের বিদায়ের দিনেও অবশ্য নিজের ক্যালেন্ডার গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখে চতুর্থ রাউন্ডে উঠলেন সেরেনা উইলিয়ামস।
ইতালির ফাবিও ফগনিনি গত শুক্রবার রাতে প্রতিযোগিতার তৃতীয় রাউন্ডেই বিদায় করে দেন অষ্টম বাছাই নাদালকে যার দখলে আছে ২০১০ ও ২০১৩ ইউএস ওপেনের শিরোপা। কিন্তু আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ৩২তম বাছাই ফগনিনির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়েও পারলেন না ১৪টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী নাদাল। মূলত ক্লে কোর্টে খেলায় পারদর্শী দুজনের মধ্যকার ৩ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটের এ লড়াই শেষ হয় ৬-৩, ৬-৪, ৪-৬, ৩-৬, ৪-৬ গেমে।
এ বছরের শুরুতেও রিও ডি জেনিরো ও বার্সেলোনাতেও ইতালিয়ানটির কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর হামবুর্গের ফাইনালে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন এক সময়ের দুর্দান্ত নাদাল। স্পেনের তারকাটি ২০০৫ সালে আমেরিকান জেমস ব্ল্যাকের কাছে তৃতীয় রাউন্ডে হারের পর এতোদিন অন্তত নিউইয়র্কের হার্ডকোর্টে আরো উঁচুতে গিয়েই থামতেন। ২৯ বছরের বাঁহাতি নাদাল অবশ্য পরাজয়েও মহানুভবতা দেখিয়েছেন কথায়। তিনি বলেন, ‘সে অসাধারণ খেলেছে। ব্যাপারটা এমন নয় যে আমি হেরেছি। আসলে সে জিতেছে। আমি আনন্দিত নই তবে আমি মেনে নিচ্ছি সে ছিল শ্রেয়তর। আমি খারাপ খেলেনি। আমি শেষ পয়েন্ট পর্যন্ত লড়েছি। কিন্তু এটা যথেষ্ঠ ছিল না।’
ফগনিনি এখন শেষ ষোলয় আরেক স্পানিশ ফেলিচিয়ানো লোপেজের মুখোমুখি হবেন। তার আগে নিজের এ জয় সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কতটা আনন্দিত তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এটা ছিল কঠিন। রাফার বিরুদ্ধে দুই সেটে পিছিয়ে পড়েও ব্যাপারটা সম্ভব করা। এটা ছিল অসাধারণ একটা ম্যাচ।’ অঘটনের এই দিনে চতুর্থ রাউন্ডে জায়গা করে নেন বিশ্বের এক নম্বর তারকা নোভাক জোকোভিচ। ইতালির আন্দ্রেয়া সেপ্পিকে ৬-৩, ৭-৫, ৭-৫ গেমে হারান তিনি। এছাড়া এদিন চতুর্থ রাউন্ডে ওঠেন ফ্রান্সের জো উইলফ্রেদ সোঙ্গা, মারিন সিলিচরা।
উইলিয়ামস বোনেরা চতুর্থ রাউন্ডে
এদিকে উইলিয়ামস পরিবারের দুই মেয়ে সেরেনা ও ভেনাস চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছেন। ছোট বোন সেরেনা উইলিয়ামস ৩-৬, ৭-৫, ৬-০ গেমে বেথানি ম্যাটেক-স্যান্ডসের বিপক্ষে জিতে ক্যালেন্ডার গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের পথে আরো এগিয়ে গেলেন। অপরদিকে বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামস তৃতীয় রাউন্ডে ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন বেলিন্ডা বেনচ্চিকে। বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় সেরেনার জয়টি অবশ্য অনায়াস ছিল না। কেননা ঘুরে দাঁড়ানোর আগে স্বদেশী বেথানির কাছে হার থেকে কেবল দুই গেম দূরত্বে ছিলেন শিরোপাধারী সেরেনা। ফলে ১৯৮৮ সালের স্টেফি গ্রাফের পর ক্যালেন্ডার স্ল্যাম জয়ের আশা জিইয়ে থাকলো ৩৩ বছর বয়সী খেলোয়াড়টির। মজার ব্যাপার হলো সেরেনা ও ভেনাসের এ জয়ে উইলিয়ামস বোনদের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও জোরদার হলো। মেয়েদের এককের এই রাতে চতুর্থ রাউন্ডে ওঠেন একাতেরিনা মাকারোভা, ইউজেনি বুচার্ডও। তবে তৃতীয় রাউন্ডের বাধা পেরোতে পারেননি আগ্নিয়েস্কা রাদভানস্কা। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন কিসের কাছে হেরে যান পোল্যান্ডের এই তারকা।

