![]() |
| রৌমারীতে এসিল্যান্ডকে লক্ষ্য করে কৃষকদের ইট-পাটকেল: ডিজেল নিয়ে তুলকালাম |
রৌমারীতে উত্তাল ফিলিং স্টেশন: এসিল্যান্ড অবরুদ্ধ, ওজনে তেল কম দেওয়ার অভিযোগ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ডিজেল সংকট ও প্রশাসনের এক বিতর্কিত ঘোষণায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কয়েকশ সাধারণ কৃষক।
শুক্রবার বিকেলে রৌমারী ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত থাকা সত্ত্বেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাফিউর রহমান ঘোষণা দেন যে, শ্যালো মেশিন বা জেনারেটর সরাসরি পাম্পে না আনলে কাউকে ডিজেল দেওয়া হবে না।
এই ঘোষণার পরপরই জারিকেন নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা জানান, দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে শ্যালো মেশিন পাম্পে আনা অসম্ভব। উত্তেজনার এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা এসিল্যান্ড রাফিউর রহমানকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত এসিল্যান্ডকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেষ পর্যন্ত প্রবল জনরোষের মুখে পাম্প কর্তৃপক্ষ কৃষকদের কাছে জারিকেনে ডিজেল বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
তবে কৃষকদের অভিযোগ কেবল তেলের প্রাপ্যতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভুক্তভোগী কৃষক নুরুল আমিনসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, পাম্প কর্তৃপক্ষ ৫০০ টাকায় মাত্র ৪ থেকে সোয়া ৪ লিটার ডিজেল দিচ্ছে, যা ওজনে অনেক কম।
এছাড়া পেট্রোল বিক্রিতে পাম্প কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন স্বজনপ্রীতি করছে বলেও মোটরসাইকেল চালকরা অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে ট্যাগ অফিসার এবং সহকারী কমিশনার উপস্থিত থাকলেও ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসেম স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করলেও দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার মনিরুল ইসলাম স্বীকার করেন যে, তিনি পেট্রোল পরীক্ষা করলেও ডিজেল মেপে দেখেননি।
সহকারী কমিশনার রাফিউর রহমান জানান, অসংখ্য মানুষের ভিড়ে ইট নিক্ষেপকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।