![]() |
| রৌমারীতে ৯ মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নেই: সেবা থেকে বঞ্চিত ৫ হাজার মানুষ |
রৌমারীর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের হাহাকার: নয় মাস ধরে বঞ্চিত প্রান্তিক মানুষ
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় ৩২টি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও গত নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কোনো ওষুধ সরবরাহ নেই। ফলে বিনামূল্যে সরকারি ওষুধ পাওয়ার আশায় ক্লিনিকে আসা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো সেবা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা শামছুদ্দোহা জানান, তিনদিন ধরে জ্বরে ভুগলেও স্থানীয় ক্লিনিকে গিয়ে কোনো ওষুধ পাননি, কেবল মিলেছে মৌখিক পরামর্শ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত এসব ক্লিনিকে প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, অ্যান্টাসিড, প্যান্টাপ্রাজলসহ প্রায় ২৮ ধরনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত জুন/২০২৫ থেকে এই সরবরাহ প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
বিশেষ করে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেটের অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার অন্তঃসত্ত্বা মা ও কিশোরীরা।
ক্লিনিকগুলোতে দায়িত্বরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) জানান, আগে প্রতি তিন মাস অন্তর ওষুধ আসলেও এখন নয় মাস ধরে স্টোর শূন্য।
প্রতিদিন গড়ে প্রতিটি ক্লিনিকে ৩৫-৪০ জন রোগী আসেন, সেই হিসেবে পুরো উপজেলায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিয়মিত এই সেবার ওপর নির্ভরশীল। ওষুধ না থাকায় ক্লিনিকগুলোর ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা কমতে শুরু করেছে।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ খান এই সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “গত এপ্রিলের পর থেকে আর কোনো ওষুধ আসেনি।
বর্তমানে সিএইচসিপিদের কাছ থেকে চাহিদাপত্র চাওয়া হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত মাসখানেক সময় লাগবে।” আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এই সংকট পুরোপুরি সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।