রৌমারীতে দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গত তিনদিন ধরে চলা দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি ও প্রবল ঝড়ে ঘরবাড়ি এবং ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। গত শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার রাতে বয়ে যাওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ভুট্টা, গম, বোরো ধান, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবমতে, প্রায় ৩৩৯ হেক্টর জমির ফসল এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা দেখে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার নতুনবন্দর, চান্দার চর, নওদাপাড়া, ইছাকুড়ি, ধনার চর, কাশিয়াবাড়ি, যাদুরচর, মাদার টিলা, চুলিয়ার চর, লাঠিয়ালডাঙ্গা, ঝাউবাড়ি, বালিয়ামারাী ও শিবেরডাঙ্গীসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়ের তাণ্ডব চলেছে। প্রবল বাতাসে অসংখ্য টিনশেড ঘরের চাল ছিদ্র হয়ে শিলা ও বৃষ্টির পানি ঘরে প্রবেশ করেছে। অনেক ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে। মাঠের পর মাঠ ভুট্টাক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে এবং অন্যান্য ফসলাদি মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এছাড়া আম ও লিচুর মুকুল ঝরে যাওয়ায় বাগান মালিকরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমের এই ভয়াবহ দুর্যোগে ৩০৫ হেক্টর ভুট্টা, ২০ হেক্টর গম, ২ হেক্টর বোরো ধান এবং সূর্যমুখী, কালোজিরা, চিনাবাদাম ও মরিচসহ মোট ৩৩৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর লাঠিয়ালডাংগা গ্রামের কৃষক ফরমার আলী আক্ষেপ করে বলেন, ৩ একর জমিতে ভুট্টার চাষ করেছিলেন তিনি, যার বেশিরভাগই এখন মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে চান্দার চর গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ১৫ কাঠা জমিতে ভুট্টা বুনেছিলেন, এখন ঋণের বোঝা আর পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে তিনি দিশেহারা।
যাদুর চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, গত দুই দিনের ভারি বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে হলে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি পুনর্বাসন প্রয়োজন। পুনর্বাসন সহায়তা পেলে কৃষকরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ কাইয়ুম চৌধুরী জানান, অসময়ে বয়ে যাওয়া এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ মিলিয়ে বেশ বড় ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করছি। এই তালিকা দ্রুতই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।