কতবেল গাছ অতি ধীরগতিতে বাড়ে। একটি কতবেল গাছে ফল ধরতে দশ থেকে বার বছর সময় লেগে যায়। অথচ এই কতবেল আপনি ছাদেও ফলাতে পারেন। যার ফল পাবেন চার থেকে পাঁচ বছরেই।
প্রথমে দুইভাগ মাটির একভাগ গোবর মিশ্রিত দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটির সঙ্গে ১০০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম পটাস, ২৫০ গ্রাম হাড়ের গুঁড়া এবং ৫০ গ্রাম সরিষার খৈল একত্রে মিশিয়ে ১০-১২ দিন রেখে দিতে হবে।
এর জন্য প্রয়োজন একটি ২০ ইঞ্চি টব। ১০-১২ দিন পর নিড়ানি দিয়ে মাটি কিছুটা ঝুরঝুরা করে ৪-৫ দিন রেখে দেয়া উচিত। অতঃপর টবে একটি ভালো কতবেলের কলমের চারা রোপণ করা যেতে পারে। প্রথমদিকে গাছে অল্প পরিমাণ পানি দিন। গাছের শিকড় মাটিতে ধরে গেলে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে।
চারা রোপণের পর প্রথম ৬ মাস তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। ৬ মাস পর থেকে ১ মাস পরপর সাধারণ খৈল পানিতে ভিজিয়ে রেখে ৭-৮দিন পর সেই পচা পানি হালকা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে। এভাবে ২ বছর পর গাছের গোড়া থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে টবের গা ঘেঁষে ৮ ইঞ্চি পরিমাণ গর্ত করে মাটি ফেলে দিতে হবে। ওই স্থানে সার মিশ্রিত নতুন মাটি দিয়ে ভরাট করে দিন। একইভাবে প্রতি বছর কিছু পুরনো মাটি পরিবর্তন করে নতুন মাটি দিতে হবে। মাটি পরিবর্তনের এ কাজটি বর্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করলেই ভালো হয়। গাছের গোড়ায় যেন আগাছা জন্মাতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গাছকে কখনোই বেশি বড় হতে দেয়া যাবে না। ছাদের গাছ বিধায় ছেঁটে যতটুকু সম্ভব ছোট রাখতে হবে।
এভাবে যত্ন নিলে তিন বছরের মধ্যে ফুল আসার সম্ভাবনা আছে। তবে প্রথম ১-২ বছর ফুল আসলেও ফল নাও টিকতে পারে। তৃতীয় বছরে পেতে পারেন কাঙ্খিত কতবেল। তবে অবশ্যই এক্ষেত্রে চারাটি কলমের হতে হবে। টবে বীজের গাছ থেকে কতবেল পাওয়া কঠিন ব্যাপার। তাই কলমের চারাই রোপণ করা উচিত।

