ডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ঃ
উন্মুক্ত জলাশয়ে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কুড়িগ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। নিজের পুকুর না থাকলেও নদ-নদীসহ উন্মুক্ত যেকোন জলাশয়ে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা যায়। ফলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাছ চাষের এ পদ্ধতি।
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ও নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গায় দুধকুমর নদীতে ১০ টি করে মোট ২০টি খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছ চাষ করছেন ২০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষন নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে মাছ চাষ শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে মাছের উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন মাছ চাষীরা। ৪ মাস পরপর ১০ ইউনিটের প্রতিটি খাঁচা থেকে মাছ বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ করছেন তারা।
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া গ্রামের কৃষক রিয়াজুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম জানান, মাছ চাষের উপযোগী আমাদের নিজেদের কোন জমি নাই। আমরা কৃষকরা ১০ জনের দল গঠন করে প্রশিক্ষন নিয়ে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করি। প্রথম অবস'ায় ১০ টি খাঁচা তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। মাছের উৎপাদন ভালো হওয়ায় আরো ৫ টি খাঁচা বানিয়েছি। সব মিলে খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা। মাছ বিক্রি করেছি ৩ লাখ টাকা। কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছি।
এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৌশল শিখে নিতে ছুটে আসছেন পাশ্ববর্তী এলাকাসহ দুর-দুরান্তের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকসহ অনেকেই।
খাঁচায় মাছ চাষ দেখতে আসা ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট এলাকার আবদার হোসেন বলেন, এর আগেও একবার এসেছি। আমি এ পদ্ধতিতে কিভাবে মাছ চাষ করা যায় তা শিখে নিচ্ছে। আগামীতে খাঁচা বানিয়ে নদীতে মাছ চাষ করবে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান খান জানান, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সকল উন্মুক্ত জলাশয় ও নদীতে খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছ চাষ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষনসহ পুর্ণাঙ্গ সহযোগীতা করে যাচ্ছি। এখানকার খাঁচায় মাছ চাষীরা সফলতা পাওয়ায় অনেকেই আমাদের কাছে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। খাঁচায় মাছ চাষে আগ্রহী কৃষকদের আন্তরিকতার সাথে পরামর্শ দিতেছি। আশা করছি আগ্রামী বছর খাঁচায় মাছ চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। শুধু মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছ নয়, থাই কৈ মাছ সহ অন্যান্য মাছ চাষেরও পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রকল্পের কুড়িগ্রাম জেলা সমন্বয় কারী সিরাজুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬ টি নদ-নদী বেষ্টিত এ জেলায় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দুই উপজেলায় নতুন এ পদ্ধতি চাল করা হয়েছে। এতে করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা স্বপ্ল সময়ে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছেন। নতুন এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরিধি বৃদ্ধি পেলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে মাছ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রকল্পের রংপুর আঞ্চলিক ব্যবস'াপক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জানান, রংপুর অঞ্চলের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে ছোট-বড় ১৬ টি নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য খাল বিল থাকায় আমরা এ জেলাকে বেঁচে নিয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে সফলতা পেয়েছি। কৃষকদের পাশাপাশি বেকারদের মাঝে ব্যাপক সারা পাচ্ছি। আশা করছি স্বপ্ল সময়ের মধ্যে খাঁচায় মাছ চাষ করে জেলার কৃষকরা স্বাবলম্বী হতে পারবেন। পাশাপাশি রংপুর অঞ্চলে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়বে।
নদ-নদী বেষ্টিত এ জেলায় খাঁচায় মাছ চাষের প্রসার ঘটতে পারলে দেশে মাছের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।
উন্মুক্ত জলাশয়ে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কুড়িগ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। নিজের পুকুর না থাকলেও নদ-নদীসহ উন্মুক্ত যেকোন জলাশয়ে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা যায়। ফলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাছ চাষের এ পদ্ধতি।
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ও নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গায় দুধকুমর নদীতে ১০ টি করে মোট ২০টি খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছ চাষ করছেন ২০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষন নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে মাছ চাষ শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে মাছের উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন মাছ চাষীরা। ৪ মাস পরপর ১০ ইউনিটের প্রতিটি খাঁচা থেকে মাছ বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ করছেন তারা।
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া গ্রামের কৃষক রিয়াজুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম জানান, মাছ চাষের উপযোগী আমাদের নিজেদের কোন জমি নাই। আমরা কৃষকরা ১০ জনের দল গঠন করে প্রশিক্ষন নিয়ে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করি। প্রথম অবস'ায় ১০ টি খাঁচা তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। মাছের উৎপাদন ভালো হওয়ায় আরো ৫ টি খাঁচা বানিয়েছি। সব মিলে খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা। মাছ বিক্রি করেছি ৩ লাখ টাকা। কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছি।
এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৌশল শিখে নিতে ছুটে আসছেন পাশ্ববর্তী এলাকাসহ দুর-দুরান্তের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকসহ অনেকেই।
খাঁচায় মাছ চাষ দেখতে আসা ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট এলাকার আবদার হোসেন বলেন, এর আগেও একবার এসেছি। আমি এ পদ্ধতিতে কিভাবে মাছ চাষ করা যায় তা শিখে নিচ্ছে। আগামীতে খাঁচা বানিয়ে নদীতে মাছ চাষ করবে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান খান জানান, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সকল উন্মুক্ত জলাশয় ও নদীতে খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছ চাষ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষনসহ পুর্ণাঙ্গ সহযোগীতা করে যাচ্ছি। এখানকার খাঁচায় মাছ চাষীরা সফলতা পাওয়ায় অনেকেই আমাদের কাছে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। খাঁচায় মাছ চাষে আগ্রহী কৃষকদের আন্তরিকতার সাথে পরামর্শ দিতেছি। আশা করছি আগ্রামী বছর খাঁচায় মাছ চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। শুধু মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছ নয়, থাই কৈ মাছ সহ অন্যান্য মাছ চাষেরও পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রকল্পের কুড়িগ্রাম জেলা সমন্বয় কারী সিরাজুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬ টি নদ-নদী বেষ্টিত এ জেলায় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দুই উপজেলায় নতুন এ পদ্ধতি চাল করা হয়েছে। এতে করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা স্বপ্ল সময়ে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছেন। নতুন এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরিধি বৃদ্ধি পেলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে মাছ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রকল্পের রংপুর আঞ্চলিক ব্যবস'াপক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জানান, রংপুর অঞ্চলের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে ছোট-বড় ১৬ টি নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য খাল বিল থাকায় আমরা এ জেলাকে বেঁচে নিয়েছি। আমরা ইতিমধ্যে সফলতা পেয়েছি। কৃষকদের পাশাপাশি বেকারদের মাঝে ব্যাপক সারা পাচ্ছি। আশা করছি স্বপ্ল সময়ের মধ্যে খাঁচায় মাছ চাষ করে জেলার কৃষকরা স্বাবলম্বী হতে পারবেন। পাশাপাশি রংপুর অঞ্চলে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়বে।
নদ-নদী বেষ্টিত এ জেলায় খাঁচায় মাছ চাষের প্রসার ঘটতে পারলে দেশে মাছের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।
