বেপরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে জেলার
চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া, চাকলাপুঞ্জি, চাঁন্দপুর, রামগঙ্গা ইত্যাদি চা
বাগান হুমকির মুখে পড়েছে। আইন লংঘন করে স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি
দিনের পর দিন এ কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভয়াবহ পরিবেশ
বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে।
কিন্তু
আলোচ্য ক্ষেত্রে আইনের এসব বিধানগুলো সুস্পষ্টত লংঘন করা হয়েছে। এ
প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ
সম্পাদক তোফাজ্জ্বল সোহেল বলেছেন, কিছু সুবিধাভোগী লোক পাহাড় ও পরিবেশের
ক্ষতি করে বালু উত্তোলন করছে। এতে করে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে
চা-বাগান ও সংরক্ষিত বনগুলো। কমে আসছে চা-শ্রমিকের কাজের পরিধি। ইতিমধ্যে
চা-শ্রমিকরা বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। স্মারকলিপি
প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসকসহ পরিবেশ অধিদপ্তরে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই
হয়নি। বালু রাখার কারণে হাজার হাজার চা-গাছ মরে যাচ্ছে। বাগান কর্তৃপক্ষও এ
বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
সরেজমিনে
দেখা গেছে, আইন লংঘন করে ৫/৭টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ছড়া থেকে বালু উত্তোলন
করা হচ্ছে। এর ফলে চা বাগানের পানি নিষ্কাশনের ছড়াগুলোতে গভীর গর্ত সৃষ্টি
হওয়ায় বাগানের ভূমি ধসে পড়ছে। এছাড়া পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের (চা
বাগানের অংশ) তিনটি ব্রিজ ভেঙ্গে গেছে। এই ব্রিজগুলো এখন নতুন করে নির্মিত
হচ্ছে। মহাসড়কের অর্ধেক অংশ বন্ধ করে বালির স্তূপ রাখা হয়েছে। এ অবস্থা চা
বাগানের অভ্যন্তরের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে।
শুধু
চা গাছ নয়, রামগঙ্গা এলাকায় চা শ্রমিকদের নিজস্ব বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও
বাঁশ বাগান ছড়ার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের বাসা-বাড়িও রয়েছে চরম
ঝুঁকিতে। একাধিক স্থানে গ্যাস লাইনের পাইপ বেরিয়ে এসেছে। রামগঙ্গার একটি
কালভার্টের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে কোন রকমে দাঁড়িয়ে আছে। ডানকান ব্রাদার্স
লিমিটেডের চাঁন্দপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক তাদের বাগানের ছড়া থেকে
অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে বাধা প্রদান করে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন
করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ
রয়েছে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চা বাগানের ছড়া পরিষ্কারের নামে এসব
বালু উত্তোলনের ইজারা নেয়া হয়েছে। বাগানের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার
সাথে যোগসাজশ করে খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের দপ্তর হতে স্থানীয়
প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব ইজারা নিয়েছেন। অথচ ২০১১ সালের ৩ আগস্ট ভূমি
মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে চট্টগ্রাম, সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা
প্রশাসককে চা-বাগানের ভিতরের বালু মহালগুলো ইজারা না দেয়ার নির্দেশনা দেয়া
হয়েছিল। কিন্তু এর কোন তোয়াক্কা কেউ করেননি।
অথচ
বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ৪ ধারায় উল্লেখ হয়েছে: ‘বিপণনের
উদ্দেশ্যে কোন উন্মুক্ত স্থান, চা বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ হইতে
নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না- ...(খ) সেতু,
কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য
গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হইলে, অথবা আবাসিক এলাকা হইতে
সর্বনিম্ন ১ (এক) কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত
সীমানার মধ্যে হইলে; (ঘ) ড্রেজিংয়ের ফলে কোন স্থানে স্থাপিত কোন
গ্যাস-লাইন, বিদ্যুত্-লাইন, পয়ঃনিষ্কাশন-লাইন বা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ
লাইন বা তদ্?সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার আশংকা থাকিলে; (চ) চা
বাগান, পাহাড় বা টিলার ক্ষতি হইতে পারে, এইরূপ স্থান হইলে; (ছ) নদীর
ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মত্স্য, জলজ প্রাণী বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হইলে বা হইবার
আশংকা থাকিলে...।’

